আমার জীবনের গল্প নিয়ে ডকুমেন্টরি হতে পারে: মমতাজ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী ও তিনবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে সবার শিল্পী বলা হয়। জনতার শিল্পী বলার এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ফোক সম্রাজ্ঞী বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং এই সুরের ক্ষমতা দিয়েছেন।’

একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ঈদ স্পেশাল এন্টারটেইনমেন্ট অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে এসব কথা বলেন সংগীতশিল্পী মমতাজ।

অনুষ্ঠানে ফোক সম্রাজ্ঞী বলেন, ‘আমার সবসময়ই বেশ ভালো ঈদ কাটে। ঈদে আমার বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকে, লাইভ থাকে। ব্যস্ত সময় কাটে। এবারের রোজায় অনেক ব্যস্ত সময় পার করেছি। আর ঈদে লাইভ প্রোগ্রামের পাশাপাশি আমার এলাকায় সময় দিতে হয়। এলাকায় সবার সঙ্গে ঈদ আড্ডা দেয়া হয়।’

ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই শিল্পী বলেন, ‘ছোটবেলার ঈদে ছোট ছোট পাওয়া, ভালো লাগা বিষয়গুলো সবাই মিস করি। আর বড় হলে দেয়ার মধ্যে আনন্দ থাকে। কাকে কী দিতে পারলাম, কাকে কী দিতে পারলাম না, কোথাও বাদ থাকলো কিনা, কারো মন খারাপ হলো কিনা— অন্যরকম এক দায়িত্ববোধ চলে আসে।’

ফোক সম্রাজ্ঞী বলেন, ‘আমার স্বভাবের মধ্যেই গান। গানের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে আমি মিশে যাই। আমি যখন বক্তব্য দেই, অনেক সময় বক্তব্যের কথাগুলোও সুরে সুরে বলে ফেলি। আবার আশপাশের মানুষ আমার কথা জানতে পারলে সব চলে আসে। নারীরা বেশি আসে। তারাও আবার অনুরোধ করে, একটু মায়ের গান শোনানোর জন্য। তখন আমি গেয়ে দেই। সব জায়গাতে আমি তাদের সঙ্গে মিশে যাই।’

মমতাজকে সবার শিল্পী বলা হয়, এ কথায় নিজের অনুভূতি কেমন তা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘এজন্য আমি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আমাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন এবং এই সুরের ক্ষমতা দিয়েছেন। মানুষকে ভালোবাসার ক্ষমতা, মানুষের কাছে যাওয়ার ক্ষমতা আল্লাহ সবাইকে দেন না। কিন্তু আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন।’

চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই সাংসদ। কিন্তু অনেকের মতে কিছু গানে কণ্ঠ দেয়া ঠিক হয়নি তার। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মমতাজ বলেন, ‘আমি জানি না কোন গানগুলোয় কণ্ঠ দেয়া ঠিক হয়নি বা কোনগুলো ঠিক। এটা হয়তো শ্রোতারা বিবেচনা করবেন। আর আমাদের যেহেতু মতের-পথের অভাব নেই, একেকজন একেক জিনিস ভালোবাসি। সেটা খাবার, পড়া, চলা-ফেরা, সবকিছুতেই কারো ভালো লাগা এক না। যেহেতু আমার গানে সবধরনের শ্রোতা আছে, আমি যদি সবধরনের গান না করতাম তাহলে এটা সম্ভব হতো না।

জনপ্রিয় এই শিল্পীর জীবনী নিয়ে ‘মমতাজ’ নামে একটি সিনেমা তৈরি হয়েছে। এতে তিনি অভিনয়ও করেছেন। সিনেমার প্রসঙ্গ উঠতেই মমতাজ বলেন, ‘আমার একটা ডকুমেন্টরি করার খুব ইচ্ছা। সেই ইচ্ছাটা এখনো পূরণ হয়নি। সামনে করব। আর সিনেমাটি তড়িঘড়ি করে একজন পরিচালক বা প্রযোজক আমাকে নিয়ে সিনেমা বানানোর কথা জানান। তখন বুঝে উঠার আগেই খুব কম সময়ের মধ্যে সিনেমাটি করা হয়। কারণ তখন আমি শারীরিকভাবেও অতটা ফিট ছিলাম না।’

এ কোকিল কণ্ঠী বলেন, ‘সবকিছু মিলে ওই সময় আমি ওইভাবে প্রস্তুতও ছিলাম না। তড়িঘড়ি করে করা হয়েছিল তখন। আমি বলব, মোটামুটি সিনেমাই হয়েছে তা। তবে জীবনের গল্প না, সেভাবে হয়নি। যেটা জীবনের গল্প সেটা সিনেমা হবে না, ডকুমেন্টরিও হতে পারে। সেটা আগামীতে আমরা চিন্তা করছি।’

এদিকে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এই গায়িকার ‘বাপের বড় পোলা’ শিরোনামের একটি গান প্রকাশ হয়েছে। সেখানে মডেল হিসেবেও দেখা গেছে তাকে। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অডিও ক্যাসেটের সময়ে যখন গান করেছি, তখন গান শোনার বিষয় ছিল। কিন্তু এখন গান শোনার পাশাপাশি দেখার বিষয়ও হয়েছে। এবার পুরান ঢাকার একটি থিম নিয়ে গান করা হয়েছে।’

৭০০টির বেশি একক অ্যালবামের এই শিল্পী মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্যও। মহামারি করোনাকালে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতাজ। তিনি বলেন, ‘ঢাকার খুবই কাছে আমার এলাকা। আমার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে পদ্মায় ভাঙন এলাকাও রয়েছে। আমি নির্বাচনে পাস করার পর, আগে হয়তো ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ ছিল সেখানে এখন একশ’ ভাগ ঘরে বিদ্যুৎ। আঞ্চলিক যে মহাসড়ক ও ব্রিজগুলো ভাঙা ছিল তা শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে ঠিক করা হয়েছে। আমাদের এলাকায় গেলে এখন গ্রামের মধ্যেও শহরের ভাব উঠে এসেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *