আমের নাম আসলে সবার আগে আসে রাজশাহীর নাম। সেই আমের সাথে এবার যুক্ত হলো জিলাপি। জিভে জল আনা কাঁচা আমের জিলাপি এনেছে রাজশাহীর ‘রসগোল্লা’। সেই সঙ্গে রাজশাহীর আরেক ঐতিহ্য মাসকলাইয়ের জিলাপির দেখা মিলছে বাজারে।
রসগোল্লার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৭ এপ্রিল) প্রথমবারের মতো তারা কাঁচা আমের জিলাপি ক্রেতাদের সামনে এনেছেন। আর তাতেই পড়েছে হুলুস্থুল। যদিও প্রথম রোজা থেকেই রসগোল্লার দুটি বিক্রিয় কেন্দ্রে মিলছে মাসকলাইয়ের জিলাপি।
নগরীর উপশহর নিউমার্কেট এলাকার রসগোল্লার বিক্রয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। ইফতার অনুসঙ্গ হিসেবে কাঁচা আমের জিলাপি নিতে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা।
বিক্রয় কেন্দ্রের সামনেই বসানো হয়েছে অস্থায়ি চুলা। সেখানেই জিলাপি ভাজছিলেন কারিগর মাসুম আলী। রস থেকে তুলে রাখার ফুসরত নেই। সঙ্গে সঙ্গে শেষ!
নগরীর ভদ্রা এবং উপশহর নিউমার্কেটে রসগোল্লার বিক্রয়কেন্দ্রে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা আমের জিলাপি। এ ছাড়া মাষকলাইয়ের জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।
রসগোল্লার বিক্রয়কর্মী নাজমুল হক জানান, তারা বেলা ২টার পর থেকে ইফতারের পসরা নিয়ে হাজির হন। তাদের প্রধান আকর্ষণ মাষকলাইয়ের জিলাপি। নতুন করে যুক্ত হলো কাঁচা আমের জিলাপি। সাথে রেশমি জিলাপিও আছে।
জিলাপির কারিগর মাসুম আলী বলেন, ‘আগে কখনও আমের স্বাদের জিলাপি বানাইনি। এই আইডিয়াটা রসগোল্লার দুই স্বত্বাধিকারীর একজন আরাফাত রুবেলের। সাধারণ জিলাপি বানাতে যেসব উপকরণ লাগে তার সঙ্গে বাড়তি যোগ করা হচ্ছে ব্লেন্ড করা কাঁচা আম।
তিনি জানান, দোকানের প্রচারের প্রধান মাধ্যমই হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। শুক্রবার সকালে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান দেন, কাঁচা আমের জিলাপি তৈরি করবেন। এই খবরেই শুক্রবার বিকেলে এখানে ছুটে এসেছিলেন বেশ কয়েকজন জিলাপি ভক্ত।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরাফাত রুবেল বলেন, ‘ইফতারের বিশেষ আইটেম হিসেবে জিলাপি অনেকেরই পছন্দ। এখন আম উঠছে। আমরা চেষ্টা করছি জিলাপির আটার সঙ্গে কাঁচা আম গুঁড়া করে দিতে। এভাবে মানুষ কাঁচা আমের ফ্লেভার পাচ্ছেন। স্বাদেও ভিন্নতা আছে। এখনও আম বড় হয়নি। একেবারেই ছোট। এর পরও আমরা এটা বানানোর চেষ্টা করছি নতুন কিছু দিতে।
রুবেল আরও বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই খাবারের মানে এবং স্বাদে ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছি। এটাও তারই একটি অংশ। এর আগে আমরা আমের মিষ্টি, খেজুর রসের মিষ্টিতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। এবার এই জিলাপিতেও প্রথম দিনেই যে সাড়া পেয়েছি, তাতে আমরা আশাবাদী। ক্রেতারা জিলাপি কিনে স্বাদে এবং মানে যেন হতাশ না হন, তা-ই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি জানান, জিলাপির স্বাদ নিতে প্রথম দিনে ক্রেতাদের মতামত নেয়া হয়েছে। বলেন, ‘মতামত অনুযায়ী দ্বিতীয় দিনে আমরা আমের পরিমাণটা বাড়িয়ে দিচ্ছি।’
দাম ও বেচাকেনা কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি কাঁচা আমের জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা করে। প্রথম দিনে ক্রেতাদের ভালো সাড়া মিলেছে। অনেককেই জিলাপি দিতে পারিনি। সাত কেজি আটার জিলাপির সবই বিক্রি হয়েছে। আমরা আশাবাদী, আমাদের মিষ্টির মতো এই জিলাপিটাও মানুষ পছন্দ করবে।’
কাঁচা আমের জিলাপিটা চিনির রসে ও মাসকলাইয়ের জিলাপিটা খেজুর গুড়ের রসে ডোবানোর কারণে স্বাদে ভিন্নতা আসে, যা ক্রেতারা পছন্দ করছেন বলে জানান রুবেল।
