Home প্রধান খবর টিপকাণ্ড: নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

টিপকাণ্ড: নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি

0
159

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দারকে হেনস্তার ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশের তদন্ত কমিটি। তদন্তে তারা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রোটেকশন বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল নাজমুল তারেকের বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে হেনস্তা করার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে হেনস্তা আদৌ কপালে টিপ পরা নিয়ে হয়েছিল কি-না তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তারা।

বৃহস্পতিবার এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল পুলিশের তদন্ত কমিটির। তবে ‘টিপ নিয়ে হেনস্তা’ হয়েছিল কি-না এ বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় প্রতিবেদন জমা দেয়নি তারা। শনিবার বা রোববার প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য আরও সময় চাওয়া হতে পারে।

ডিএমপি সদরদপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় দুই সদস্যের গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তবে তারা মৌখিকভাবে জানিয়েছে যে প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে তাদের আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। তারা পরবর্তী কার্যদিবসে ডিএমপির কাছে লিখিতভাবে সময় আবেদন করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তে কমিটি নিশ্চিতভাবে জানতে পেরেছে যে সেদিন কনস্টেবল তারেক ও শিক্ষিকার মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। তবে এর সূত্রপাত্র হয়েছিল রং সাইডে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে। সেদিন সকালে কনস্টেবল রং সাইডে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে তাকে ডাক দেন লতা। ‘পুলিশের লোক হয়েও কেন রং সাইড দিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন’, এমন জানতে চান তিনি। এতেই তাদের দুইজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

তবে টিপ নিয়ে কনস্টেবল লতাকে অপমান করা হয়েছিল কি-না এ বিষয়ে কমিটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। সিসিটিভি ফুটেজেও বিষয়টি ধরা পড়েনি। এছাড়াও তদন্তের সময় জিজ্ঞাসাবাদে কনস্টেবল ও লতা দুজনই ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেছেন। দুজনের বক্তব্যে বিন্দুমাত্র মিল না থাকায় কমিটি তদন্তের জন্য আরও সময় চাইতে পারে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘নাজমুল ওই ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কেমন আচরণ করেছেন এ বিষয়ে বাদীর অভিযোগ আর নাজমুলের বর্ণনা ছাড়া কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী নেই। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পেলেও ঘটনাপ্রবাহ বোঝা যেত। তবে জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুল নিজেই স্বীকার করেছেন ওই নারীর সঙ্গে খারাপ আচরণের কথা।

‘এর বাইরে রং সাইড দিয়ে মোটরসাইকেল চালানো, ডিউটিতে ঠিক সময়ে উপস্থিত না থাকা, হেলমেট না পরা, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানোর মতো অপরাধ সামনে এসেছে। আর এসব নির্বিঘ্নে তিনি করেছেন বাহিনীর পোশাক গায়ে চড়িয়ে। তদন্তে বাহিনীর ইমেজ সংকটকেও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’

তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ ও নাজমুলের স্বীকারোক্তির সঙ্গে অভিযোগকারীর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ থাকা ঘটনার বর্ণনায় কিছুটা অমিল পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘শিক্ষিকার অভিযোগ ও নাজমুলের স্বীকারোক্তিতে ঘটনার অনেক বিষয়ই মিলে যাচ্ছে। শুধু ঘটনা শুরুর মুহূর্তের বর্ণনা দুই জন ভিন্ন দিচ্ছেন।

‘তাই এই বিষয়টি নাজমুলের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে বিভাগীয় বিষদ তদন্তে পরিষ্কার করা হবে। তখন নাজমুল ও ওই শিক্ষিকাকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

বিভাগীয় তদন্তে নাজমুলের অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হলে বাহিনীর আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে শাস্তি নির্ধারণ করা হবে।

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে পাওয়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের উপ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘আপনার মতো আমাদেরও এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন ছিল আমরা তদন্ত কমিটিকে এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর খুঁজতে বলেছি।

‘এসব উত্তরের সব ব্যাখ্যা-তথ্য প্রমাণসহ প্রতিবেদনে উল্লেখ করবে তদন্ত কমিটি। আর প্রতিবেদন তৈরি হবার সঙ্গে সঙ্গেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here