আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়াকে তাদের বর্বর হামলা বন্ধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ইউক্রেইনকে সাহায্য করার জন্য ফের পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আবেদন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
কিয়েভের স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় নাগরিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি এ আবেদন জানান বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তিনি বলেন, “এই সকালে আমরা আমাদের দেশকে একাই রক্ষা করে চলেছি। গতকালের মতোই, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীগুলো দূর থেকে তা প্রত্যক্ষ করছে।
“গতকালের নিষেধাজ্ঞায় কি রাশিয়া প্রভাবিত হয়েছে? আমরা আমাদের আকাশে যে শব্দ শুনছি ও ভূমিতে যা দেখছি তাতে এটা যথেষ্ট নয়।”
মস্কোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “কীভাবে শত্রুতা শেষ করা যায় তা নিয়ে এবং এই আক্রমণ বন্ধের বিষয়ে আগে হোক পরে হোক রাশিয়াকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। যত আগে আলাপ শুরু করা যাবে রাশিয়ার ক্ষতি ততই কম হবে।
“আক্রমণ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করে যাবো।”
শুক্রবার ভোরের আগে থেকে বহুবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। তিনি জানান, ভোর ৪টা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক এলাকায়ও হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এর আগে রাশিয়া জানিয়েছিল, তারা বেসামরিক এলাকাকে ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যস্থল করছে না। কিন্তু এদিন সকালে কিয়েভে বেশ কিছু বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে, তারমধ্যে একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণও ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রথম দিনের হামলায় বেশ অগ্রগতি দাবি করা হয়েছে। ইউক্রেনের চেরনোবিল এরই মধ্যে দখল করে নিয়েছে রুশ সেনারা। টিআরটি জানাচ্ছে, কিয়েভের উত্তর দিক দিয়ে রুশ সেনারা রাজধানীতে প্রবেশ করছে। রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা করছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেন সেনাদের অস্ত্র ত্যাগ করে ঘরে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
তবে ইউক্রেনও রাশিয়াকে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সাফল্যের দাবি করেছে। দেশটির দাবি এ পর্যন্ত রাশিয়ার সাতটি যুদ্ধবিমান ও একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে তারা।
তবে উভয় পক্ষের দাবি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রথম দিনে সেনা ও বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে ‘সামরিক অভিযানের’ ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকে ভয়াবহ সংঘাত চলছে।





