Home ফিচার তৃতীয় শ্রেণি পাশ শ্বশুরের ক্লিনিকে এসএসসি পাস জামাই ‘বিশেষজ্ঞ’ ডাক্তার

তৃতীয় শ্রেণি পাশ শ্বশুরের ক্লিনিকে এসএসসি পাস জামাই ‘বিশেষজ্ঞ’ ডাক্তার

0
112

নজর২৪, ঢাকা- রাজধানীর খিলগাঁও তিলপাপাড়ায় জামাই-শ্বশুর মিলে চালাতেন একটি ডেন্টাল ক্লিনিক। সেখানে প্রেসক্রিপশন লেখতেন এসএসসি পাস পাস জামাতা। আর সেই প্রেসক্রিপশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাক্ষর দিতেন তার তৃতীয় শ্রেণি পাস শ্বশুর। ভু’ক্তভো’গী রোগীদের অ’ভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে ‘পঞ্চগড় ডেন্টাল ক্লিনিক’ নামের ওই ক্লিনিকে অভিযান চালায় র‍্যাব-৩।

 

অভিযান শেষে শ্বশুর নূর হোসেনকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং জামাতা জাহিদুল ইসলামকে এক বছরের কা’রাদ’ণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু। আর ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়।

 

অভিযান শেষে পলাশ কুমার বসু বলেন, অভিযানে দেখা যায় অন্য ডাক্তারের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ডাক্তার অপারেশনসহ দাঁতের সকল ট্রিটমেন্ট দিচ্ছেন নূর হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম। জিজ্ঞাসাবাদে ভু’য়া চিকিৎসক নূর হোসেন ওষুধের নামও ঠিক মতো উচ্চারণ করতে পারছিলেন না। তখন জানতে চাইলে মো. নূর হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান, তিনি তৃতীয় শ্রেণি পাস। সম্পর্কে তিনি অপর ভু’য়া চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামের শ্বশুর।

 

পলাশ কুমার বসু জানান, জামাতা জাহিদুল আগে পাথর কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সেটা ছেড়ে শ্বশুড়ের সঙ্গে ডেন্টাল ক্লিনিকটিতে ভু’য়া চিকিৎসা দেয়া শুরু করেন। জিহান কবির নামক এক চিকিৎসকের প্যাডে তারা স্বাক্ষর করে চিকিৎসাপত্র দিয়ে আসছিলেন। জামাতা জাহিদুল ওষুধের নাম লিখতেন, আর শ্বশুর নুর হোসেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে শুধু স্বাক্ষর করতেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে তারা এই জালিয়াতির মাধ্যমে ভু’য়া চিকিৎসা দিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতা’রণা করে আসছিলেন বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট।

 

ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, নূর হোসেন দীর্ঘদিন যাবত এই প্রতা’রণার সঙ্গে জড়িত। তিনি আগে চিকিৎসকদের অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতেন। মাঝে মাঝে তিনি চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসাপত্র দিতেন। বছরখানেক আগে তিনি নিজেই বেশি লাভের আশায় এই ‘পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার’ নামক প্রতিষ্ঠানটি গড়ে বসেন।

 

জামাই-শ্বশুর মিলে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। শশুর নূর হোসেনকে দুই বছরের কারা’দ’ণ্ড এবং জামাতা জাহিদুল ইসলামকে এক বছরের কা’রাদ’ণ্ড দেয়া হয়েছে। পঞ্চগড় ডেন্টাল কেয়ার নামক প্রতিষ্ঠানটি সিল’গালা করে দেয়া হয়েছে।

 

অভিযানকালে বেশ কয়েকজন ভু’ক্তভো’গী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, দালালদের মাধ্যমে তারা জেনেছেন, ওই ডেন্টাল কেয়ারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বসেন। অনেকে চিকিৎসাপত্রও নিয়েছেন। কিন্তু তারা এটা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি মাত্র তৃতীয় ও এসএসসি পাশ দুজন ভু’য়া চিকিৎসক হিসেবে এতদিন চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here