বিনোদন ডেস্ক- পারিবারিক কলহের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। সংসারে নারীদের ওপরে পুরুষের নি র্যা তনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন তিনি।
চুপচাপ সহ্য না করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পারিবারিক এই হিংসার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত বলে মনে করেন মিথিলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় সমাজের নারীদেরও সেই বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
মিথিলা বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমরা কিছু কথা শুনে আসছি যেগুলো পারিবারিক নি র্যা তনকে আমাদের সমাজে স্বাভাবিক করেছে। যেমন, মেয়েদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, বাসর রাতে বিড়াল মারো, লাল শাড়িতে যাবে সাদা শাড়িতে আসবে। এমন আরও রয়েছে। ছোট থেকেই অনেক বাড়িতে মেয়েদেরকে শেখানো হয় সংসারে মানিয়ে চলতে। স্বামী যদি রগচটা হন তাহলে তার রাগের সঙ্গেই মানিয়ে চলতে হবে। উপরন্তু এটা খেয়াল রাখতে হবে যাতে স্ত্রী যেনো স্বামীর রাগের কারণ না হয়। আর যদি হয় তবে স্বামী তার গায়ে হাত তুলতেই পারে। সেটাও তাকে মুখ বুজেই সহ্য করতে হবে। এমনকি এমনও বোঝানো হয় যে রাত করে বাড়ি ফিরলে মার তো খাবেই!
মিথিলা তার কথায় বুঝাতে চেয়েছেন ওই কথাগুলো যেনো মেয়েদের জীবনগাথা। শহর থেকে শহরতলি হয়ে দেশ বা বিদেশ এ কথাগুলোই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মেয়েদের শেখানো হয়। একুশ শতকেও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বরং জন্ম থেকে শুনতে শুনতে কথাগুলো যেনো ‘অভ্যাস’ হয়ে দাঁড়িয়েছে নারী জীবনে। হাজার নিয়ম, নীতির বেড়াজালে বন্দি নারী যখনই ছটফটিয়ে উঠে নতুন কিছু শুনতে চায় এই কথাগুলো যেনো আরও বেশি করে শোনানো হয় তাকে। যাতে নিয়ম-বিরুদ্ধে, নীতি-বিরুদ্ধে কোনো কাজ, কোনো পদক্ষেপ সে না নিয়ে ফেলে।
স্বামী বা পুরুষ সঙ্গীর রাগ বড্ড বেশি, তাই সে রেগে গিয়ে হাত তোলে। তাই স্ত্রীকে বা সেই মেয়েকেই সাবধানে থাকতে হবে, সেই পুরুষ যাতে রেগে না যান। এই সমীকরণে অভ্যস্ত হয়েও সমাজে গার্হস্থ্য হিংসা কি কমেছে? বরং উল্টোটাই হচ্ছে। কারণ শুধু সমাজ বা পুরুষ নয়, পিতৃতন্ত্রের দাপটে এই কথাগুলো এক নারী অবলীলায় আর এক নারীকেই বলতে থাকে।
একুশ শতকেও কি এই ধারা বদলাবে না? অবশ্যই বদলাবে। তারই ডাক দিয়েছেন মিথিলা। যুগ যুগ ধরে চলে আসা কথাগুলোর সঙ্গেই ছিল তার জোরাল প্রতিবাদ। তার দাবি, ‘এই সব কথা আমাদের সমাজে পারিবারিক নির্যাতনকে আরও যেনো স্বাভাবিক করে তুলছে। আমি এই ধরনের সমস্ত কথা বর্জন করছি।’ একইভাবে তিনি সমস্ত মেয়ে এবং সমাজের সবাইকে পারিবারিক হিংসার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
মিথিলার এই প্রতিবাদী রূপ নতুন নয়। এর আগেও তিনি নারী-শিশু পাচার এবং ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটারে অশ্লীল কটাক্ষের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
