শামছুজ্জামান বাবুল, নান্দাইল প্রতিনিধি: ঐতিহ্যবাহী হাইত উৎসব। বিলের মাছ ধরতে শিকারীদের হইহুল্লোর উল্লাসে মেতে ওঠা। এলাকার হাট বাজারে ঢাক-ডোল পিটিয়ে আগাম ঘোষণা দেয়া হয়।
নির্ধারিত দিনে মাছ ধরা এই উৎসবে দলে দলে যোগ দেন মৎস্য শিকারীরা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের জালিয়া বিলে হাইত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ভোরে শত শত মানুষ অংশ্য গ্রহন করেন এই হাইত উৎসবে। একদিকে টাকজাল ও জালি দিয়ে ছোট মাছ ধরতে শুরু করেন শিকারীরা। অপরদিকে বিলের পাড়ে জরো হতে থাকে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বাঁশ দিয়ে তৈয়ার পলো শিকারীরা। পরে এক সাথে ডাক চিৎকার ও হইহুল্লো উল্লাসে পানিতে নেমে পড়েন পলো শিকারীরা।
জালিয়া বিলের এই হাইত উৎসবে আনন্দের কমতি নেই। উৎসবমুখর পরিবেশে মেতে উঠেন বিলের পাড়ের লোকজন। আত্মীয় স্বজন আসেন বিভিন্ন এলাকা থেকে। এই উৎসবকে ঐতিহ্য মনে করেন ওই এলাকার অনেকেই। তবে আগের মত এখন আর মাছ নেই। দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধারার সেই ইমেজ। খাল-বিল ভরট হয়ে নদীর সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পোনা থাকতেই মাছ মেরে ফেলা হলো বড় কারণ।
এবার মাছ ধরা উৎসবে মাছ না পেয়ে উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ, চন্ডীপাশা ইউনিয়নের খামারগাঁও গ্রামের আব্দুল হেলিম ও ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার নিবিয়াগাটা গ্রামের আবুল কাশেম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- হাইত উৎসবে কত দূর-দূরান্ত থেকে মাছ ধরতে মানুষজন আসে। এমন অবস্থা হলে আগামীতে এই উৎসব জমবে না।
বিলেরপাড়ের বাসিন্দা খামারগাঁও চারকান্দা গ্রামের মো. মতিউর রহমান বলেন- হাইত এই এলাকার একটা বড় উৎসব। আত্মীয় স্বজন এসে সমস্ত এলাকা ভরে যেত। ছোট মাছ ধরে ফেলা এবং খাল-বিল ভরট হয়ে যাওয়ায় এখন আর মাছ থাকেনা। তাই এই উৎসবে আমরা এখন আর আনন্দ উপভোগ করতে পারিনা। তিনি আরও বলেন- খাল-বিল ভরট হয়ে যাওয়ায় নদীর সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এই বিলে পানি জমা হয়ে প্রতি বছরই বন্যা দেখা দেয়। অভাব অনটনে থাকতে হয়। তাই এলাবাসীর পক্ষথেকে একটি খাল খননের দাবি জানান তিনি।।
