Home দেশের খবর ঢাকা শীতের আগমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোশকের কারিগরা

শীতের আগমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোশকের কারিগরা

0
287

রাকিবুল ইসলাম রাফি, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: হেমন্ত মানেই শীতের পূর্বাভাস। রাত শেষে ঠান্ডা শীত শীত হিমেল বাতাস, আর ভোরে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির বিন্দুই বলে দেয় শীত আসছে। দেশের পশ্চিমের জেলা রাজবাড়ীতে শীতের আগমনী বার্তা আসার সঙ্গে সঙ্গে ধুনারীদের (লেপ-তোশকের কারিগর) তুলা ছাঁটাই ও লেপ তৈরির কাজে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে।

 

এক সপ্তাহ ধরে জেলায় শীত ও কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। ভোরে কুয়াশায় ঢেকে যায় সবুজ মাঠ। সামনে আসন্ন পৌষ ও মাঘের শীত। তাই পদ্মা ও গড়াই চরাঞ্চল এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষ আগেভাগেই লেপ-তোশক বানাতে শুরু করেছেন। এ ছাড়া মেয়ে-জামাই’র বাড়িতে বালিশ, লেপ, তোশক দেওয়ার একটি রীতি রয়েছে এ অঞ্চলে। সব মিলিয়ে লেপ-তোশক কারিগরদের এখন দম ফেলার সময় নেই। কেউ কেউ পুরনো লেপ ভেঙে নতুন করে বানিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ নতুন তুলা দিয়ে তৈরি করে নিচ্ছেন লেপ, তোশক ও বালিশ।

 

সরেজমিনে লেপ-তোশক প্রস্তুতকারী বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, মালিক-শ্রমিক, ধুনকরা এখন তুলাধোনায়, লেপ-তোশক তৈরি ও সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মুনাফা এবং বেশি বিক্রির আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ক্রেতারাও লেপ-তোশক তৈরির জন্য ভিড় করছেন। জেলা শহরসহ পাঁচটি উপজেলার ছোট-বড় হাটবাজারগুলোয় জাজিম, বালিশ, লেপ, তোশক তৈরি ও বিক্রির কাজে প্রায় চার শতাধিক ধুনক ও ব্যবসায়ী নিয়োজিত রয়েছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের তীব্রতা বাড়লে লেপ-তোশক তৈরি ও বিক্রি হয় বেশি। জেলার পাংশা উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন শতাধিক লেপ-তোশকের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের কারিগররা এখন খুবই কর্মব্যস্ত।

 

শহরের লেপ-তোশক দোকানের মালিক মো. আলতাফ হোসেন জানান, সময়মতো লেপ-তোশক ডেলিভারি দেওয়ার জন্য তারা এখন ব্যতিব্যস্ত। সারা বছরের মধ্যে এ শীত মৌসুমেই তারা কাজের বেশি অর্ডার পান। ফলে এ সময় তাদের কাজ বেশি করতে হয়। এক মৌসুমের আয় দিয়েই তাদের পুরো বছর চলতে হয় বলে জানান তিনি।

 

জেলার পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া এলাকায় লেপ বিক্রি করতে আসা ফেরিওয়ালা বাবলু শেখ বলেন, ‘একটি লেপ তৈরি করতে খরচ পড়ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। আমরা বিক্রি করছি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়।’

 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার লেপ-তোশক তৈরির মূল উপাদান কার্পাস তুলা ১৩০-১৫০ টাকা, ‘বোনা তুলা’ ১১০-১২০ টাকা, চাদর তুলা ৮০-৯০ টাকা এবং গার্মেন্টস তুলা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here