নজর২৪ ডেস্ক- দেশে দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়ায় অসহনীয় গরমে লোকাল বাসে চলাচলে যাত্রীদের হাঁসফাঁস অবস্থা। এই গরম থেকে যাত্রীদের আরাম দিতে বড় পরিসরে কোরিয়ান ৩২০টি এসি বাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবিত ‘প্রকিউরমেন্ট অব সিএনজি সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস ফর বিআরটিসি’ প্রকল্পে সিএনজিচালিত বাসগুলো আনা হবে।
তবে এর আগে ২০০৪ সালে ৫২ কোটি ব্যয়ে ৫০টি দ্বিতল সুইডিশ ভলভো বাস কেনা হয়। পরে অযত্ন-অবহেলায় বাসগুলো নষ্ট হয়ে যায়। শেষমেষ বাসগুলো মাত্র ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। মূলত যন্ত্রাংশের অভাবেই অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালের আগেই বিকল হয় বাসগুলো।
অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন করে এবার বড় পরিসরে কোরিয়ান এসি বাস কেনার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিআরটিসি। আগের প্রকল্পগুলোতে ১০ শতাংশ যন্ত্রাংশের সংস্থান থাকলেও এবার রাখা হয়েছে ৩০ শতাংশ। এতে বাসগুলো দীর্ঘদিন মানুষের সেবা দিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম বলেন, কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংকের ঋণে ৩২০টি এসি বাস কেনা হবে। সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে বাসগুলোতে। আমরা এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাবনা কমিশনে পাঠিয়েছি। এটা একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
সুইডিশ ভলভো বাসের মতো বাসগুলোর অবস্থা দ্রুত সময়ে বেহাল হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগের প্রকল্পগুলোতে ১০ শতাংশ যন্ত্রাংশের সংস্থান ছিল। তবে নতুন প্রকল্পে ৩০ শতাংশ যন্ত্রাংশের সংস্থান রাখা হয়েছে। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকেই এ সিদ্ধান্ত। পার্টসের ব্যবস্থা বেশি রাখছি, যাতে বাসগুলো ২০ থেকে ২২ বছর সেবা দিতে পারে।
বিআরটিসির প্রস্তাবিত প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান। তবে কোরিয়ান বাসগুলো দীর্ঘদিন যাতে মানুষকে সেবা দিতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, তারাও (বিআরটিসি) সরকার আমরাও সরকার। মানুষ যাতে সঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারে সেজন্য প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বাস কেনার বিষয়ে অনেক অভিযোগ শুনতে পাই। কিছুদিন না যেতেই বাসগুলো ভেঙে পড়ে, নষ্ট হয়। জনগণের টাকায় কেনা বাসগুলো যাতে দীর্ঘদিন সেবা দিতে পারে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য কোরিয়ায় প্রস্তাব পাঠিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ও কোরিয়ান সরকারের মধ্যে বিষয়টি আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ইআরডি থেকে প্রস্তাব কোরিয়ান সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন অর্থায়নের বিষয়টি আলোচনা পর্যায়ে আছে।
