Home ফিচার ৭০ বছর পর হারানো ছেলেকে ছুঁয়ে দেখলেন মা!

৭০ বছর পর হারানো ছেলেকে ছুঁয়ে দেখলেন মা!

0
101

নজর২৪  ডেস্ক- এই গল্পের শুরুটা ৭০ বছর আগে। অনেকটা সিনেমার মতো। চাচার সঙ্গে রাজশাহী বেড়াতে গিয়ে হারিয়ে যান ১০ বছর বয়সী শিশু আবদুল কুদ্দুস মুন্সি। এরপর অনেকটা সময় পেরিয়েছে। কিন্তু কুদ্দুসের কোনো খোঁজ মেলেনি। ফিরতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামে।

 

প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে কুদ্দুস সংসার পাতেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারুইপাড়ায়। এখন তিনি আট সন্তানের জনক। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটলেও নিজের মা ও স্বজনদের ফিরে পাওয়ার জন্য ডুকরে কাঁদত কুদ্দুসের মন।

 

কুদ্দুস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামের মৃত কালু মুন্সির ছেলে। তিন ভাই বোনের মধ্যে কুদ্দুস ছিলেন সবার বড়। তার দুই বোনের মধ্যে এক বোন জোৎস্না আক্তার মারা গেছেন। কুদ্দুস এখন ৮০ বছরের বৃদ্ধ। জীবন সায়াহ্নে এসে মায়ের খোঁজ পেয়েছেন তিনি।

 

৭০ বছর পর শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের আশরাফবাদ গ্রামে ছোট বোন ঝর্ণা আক্তারের শ্বশুরবাড়িতে ১১০ বছর বয়সী মা মঙ্গলেমা বিবি ওরফে মঙ্গলুন্নেসার সঙ্গে দেখা হয় কুদ্দুসের। মাকে দেখার পর আপ্লুত হয়ে কিছুক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখেন। এরপর মায়ের হাত ধরে কয়েকবার চুমু খান। চোখ ভেজান কান্নায়। ১১৫ বছরের মঙ্গলুন্নেসাও সন্তানের হাত ধরে চুমু খান। মা-ছেলের এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই।

 

 

গত এপ্রিল মাসে ফেসবুকে বৃদ্ধ কুদ্দুস মুন্সির স্বজনদের সন্ধান চেয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারুইপাড়ার বাসিন্দা খান মোহাম্মদ আইয়ুব আলী। ভিডিওটি নজরে আসে কুদ্দুসের চাচাতো ভাইয়ের নাতি শফিকুল ইসলামের। সেই ভিডিওর সূত্র ধরেই শফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন রাজশাহী যান কুদ্দুসের কাছে। এরপর ভিডিও কলে মা মঙ্গলুন্নেসার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। কুদ্দুসের হাতে ছোটবেলার কাটা দাগ দেখে তাকে চিনতে পারেন মঙ্গলুন্নেসা।

 

দীর্ঘদিন পর মাকে পেয়ে আপ্লুত আবদুল কুদ্দুস মুন্সি বলেন, মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকলেও সবসময় মায়ের স্মৃতি মনে হতো। মাকে ফিরে পাব সেটা কখনোই ভাবিনি। জীবনের সবচেয়ে খুশির মুহূর্ত এটি।

 

তবে বয়সের ভারে ন্যুব্জ মঙ্গলুন্নেসা হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ ইশারায় প্রকাশ করলেও মুখে তেমন কিছু বলতে পারেননি।

 

ভাইকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা আবদুল কুদ্দুস মুন্সির বোন ঝর্ণা আক্তার বলেন, আমার জন্মের পর ভাইকে দেখিনি। ভাই হারিয়ে গেছে বলে শুনেছি। এভাবে ভাইকে ফিরে পাব সেটা কল্পনাও করিনি। আমার যে আনন্দ লাগছে, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

 

ফেসবুকে পোস্ট করা আইয়ুব আলী বলেন, ‘বারুইপাড়া বাজারের মোড়ে এক চায়ের দোকানে বসে ৭০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়ার গল্প বলছিলেন আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী। তার গল্পটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে গত ১২ এপ্রিল আমার ফেসবুক পেজে আপলোড করি। লিখেছিলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার এই বৃদ্ধ আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়ার পর মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন।’

 

 

বহু মানুষ সেই পোস্টটি শেয়ার করেন জানিয়ে আইয়ুব বলেন, ‘কিছু প্রবাসী আমার ফ্রেন্ড লিস্টে আছেন। তারা দেখেন সেটা। তারপর ওই এলাকার মানুষ ফেসবুকে আব্দুল কুদ্দুসের ভিডিও দেখে যোগাযোগ করেন।’

 

কুদ্দুস বলেন, ‘মায়ের সঙ্গে যখন ভিডিও কলে প্রথম কথা বলি, তখন আমার মা আমাকে বলেন, তুই আমার হারিয়ে যাওয়া কুদ্দুস, বাবা। তোর ছোটবেলায় হাত কেটে গিয়েছিল। মায়ের মুখে এ কথা শোনার পর আমি বলি, মা তোর কুদ্দুসের কোন হাত কেটে গিয়েছিল? তখন মা বলে, বাম হাতের বুড়ো আঙুল কেটে গিয়েছিল। তখন আমি বুঝতে পারি যে তিনিই আমার মা।’

 

বর্তমানে কুদ্দুসের তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। দুই ছেলে থাকেন বিদেশে। আর এক ছেলে বাড়িতে আছেন বলে জানান কুদ্দুস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here