নজর২৪ ডেস্ক- করোনাকালে হঠাৎ একের পর এক মডেলকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ভুয়া পরিচয়ে প্রভাব খাটানো ব্যক্তিও ধরা পড়েছেন। যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন তাদের অধিকাংশের বাস রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে খ্যাত গুলশান-বনানী ও বারিধারায়। তাদের সখ্য যাদের সঙ্গে, তারাও সমাজের উঁচু স্তরের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
হেলেনা জাহাঙ্গীর, ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতায় গতকাল গ্রেপ্তার হলেন অভিনেত্রী পরীমণি। এ ছাড়া বিতর্কিত মডেলদের সহযোগী হিসেবে শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কেন আকস্মিকভাবে এসব গ্রেপ্তার- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল নেপথ্য কাহিনি। মডেলদের কেউ কেউ পার্টির আড়ালে গোপন ক্যামেরায় সমাজের বিত্তশালীদের অসতর্ক মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও তুলে রাখতেন। এর পরই এই ছবি তাদের পরিবারের স্বজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে বিত্তশালীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ চক্রের সদস্যদের এজেন্ট রয়েছে। তারা সেখান থেকে সুন্দরী মেয়েদের নানা প্রলোভন দিয়ে ঢাকায় আনতেন। এরপর তাদের মাধ্যমে অভিজাত এলাকার পার্টি গার্ল হিসেবে ব্যবহার করতেন। অনেককে মডেল বানানো, নাটক-সিনেমায় কাজ করার টোপ দেওয়া হতো।
আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বেসরকারি একটি ব্যাংকের এমডি সম্প্রতি মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের চক্করে পড়েন। তার অসতর্ক অবস্থার ছবিকে পুঁজি করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এদের চক্কর থেকে বের হতে ওই ব্যাংকের এমডি বিষয়টি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে জানিয়ে আইনি প্রতিকার চান। শুধু ওই ব্যাংকের এমডি নন, এখন পর্যন্ত পিয়াসা ও মৌয়ের মোবাইল ফোন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৭টি ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব ভিডিওতে কয়েকজন শিল্পপতি-ব্যবসায়ীর বখে যাওয়া সন্তানদের অসতর্ক মুহূর্তের ছবি রয়েছে।
ব্যাংকের এমডির সূত্র ধরে বিত্তশালীদের ফাঁসানোর বিষয় জানার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গভীরভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এসব অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে সবুজ সংকেত মেলার পর গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার তালিকায় আরও ৩৫ থেকে ৪০ জন রয়েছেন। মূলত অসতর্ক মুহূর্তের ছবি ব্যবহার করে ফাঁসানোর এ চক্রটিকে একটি বার্তা দিতে চান সংশ্লিষ্টরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, অসতর্ক অবস্থায় তোলা ছবি ও ভিডিও পুঁজি করে অনেক বিতর্কিত মডেল ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাসোহারা নিতেন। কেউ কেউ দামি গাড়ি নিয়েছেন। অনেককে বিদেশ ভ্রমণের পুরো খরচও দেওয়া হয়। মূলত বিতর্কিত মডেলদের মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে যাদের অসতর্ক মুহূর্তের ভিডিও রয়েছে, তা জব্দ করা হবে। আরও কয়েকজন মডেল গ্রেপ্তারের তালিকায় রয়েছেন।
গত ১ আগস্ট রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ প্রথমে বারিধারায় পিয়াসার বাসায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর পর অভিযান চালানো হয় মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে মৌয়ের বাসায়। তার বাসাতেও মাদক পাওয়া যায়। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
