নজর২৪ ডেস্ক- ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সেই রাতে ঘটনার সময় পরীমনির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার কস্টিউম ডিজাইনার জিমি। সেই রাতে কি হয়েছিল তা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন নায়িকার সঙ্গে থাকা কস্টিউম ডিজাইনার।
পরীমনির দায়ের করা মামলায় সোমবার গ্রেফতার করা হয় মামলার প্রধান আসামি নাসির ইউ মাহমুদ ও অমিসহ ৫ জন। তাদের গ্রেফতারের পরেই রাতে বনানীর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকাই ছবির নায়িকা পরীমনি। সে সময় পরীমনির সঙ্গে থাকা কস্টিউম ডিজাইনার জিমির কাছে ঘটনা জানতে চাওয়া হয়।
গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে কস্টিউম ডিজাইনার বলেন, আমার নাম জিমি। আমি ফ্যাশন ডিজাইনার। সব কথা বলার মতো সাহস সবসময় থাকে না। কথাগুলো বলার সময় হইছে। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। সব কিছু বের হবে, সবার সামনে আসবে, আমি এটা বিলিভ করি।
তিনি বলেন, তারা আপিকে বাজেভাবে গালাগাল করল। আপি আমাকে আগেই বলেছিল যদি কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে। ওরা যখন আপিকে গালাগাল করছিল তখন আমার হাত কাঁপছিল। আমি আপির মোবাইল ফোন বের করেছি, তার মোবাইলের ভেতরে ঢুকতে পারিনি। আমি আমার মোবাইল বের করে ফেলছি। বের করে ১৫ সেন্ডের একটি ভিডিও করেছি।
‘ওটা হাতে নিয়ে দেখার পরে আমাকে এসে ওনারা দুইজন অ্যাটাক করেছে। আমি আপির ফোনটা ওখানেই রেখে এসেছি। ওরা ভাবছে আপির ফোনেই ভিডিওটা করেছি। আপির ফোন উড়ায় ফেলে দিছে’।
জিমি বলেন, ওরা লাইট বন্ধ করে দিছে। এসি বন্ধ। আপির অক্সিজেন কমে আসছে। আমি ওয়েটার কে বলেছি ভাইয়া এসিটা ছাড়েন আপি শ্বাস নিতে পারছে না। ওরা আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে। ওরা এসি ছেড়েছে। ওয়েটাররা সব পাশেই ছিল। আর এর মধ্যে ওরা চলে গেছে। ওয়েটারদের বলেছি ভাইয়া লাইটা জ্বালিয়ে দেন। তখন তো আপি নিশ্বাস নিতেই পারছিল না। হাসপাতালে নিতে হবে, অক্সিজেন দিতে হবে।
‘তখন আমি তাদের বলছি প্লিজ আপিকে ধরেন, তো আমি ধরছি আমার সঙ্গে তারাও ধরছে গাড়িতে তুলে দিছে’।
নাসিরকে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে জিমি বলেন, আসলে আমি একটা গেঞ্জি আর শটর্স পরা ছিলাম। এ অবস্থায় আমাদের ঢুকতেও দিচ্ছিল না। ফোন করার পরে আমাদের ঢুকতে দেয়। আপি সেখানে উঠে বাথরুমে যায়। আমি মদপানের বিষয় বলতে, আমি তো ওনাকে চিনিও না।
মারধরের বিষয়টি নিয়ে পরীমনি বলেন, ও আসলে একটা অ্যাকসিডেন্ট করেছিল। এমন একটা কাঁচা ঘাঁ নিয়ে কিভাবে মারধর করবে।
গত রোববার পরীমনি হঠাৎ করেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। পরে রাতে গণমাধ্যমের সামনে এসে বিস্তারিত খুলে বলেন।
ঘটনা ঘটে গত বুধবার রাতে। আর পরীমনির অভিযোগ পুলিশ নিচ্ছিল না।
তবে সোমবার তার মামলা নেয়া হয় আর প্রধান আসামি জাতীয় পার্টির নেতা নাসিরউদ্দিন মাহমুদসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই ঘটনায় কৃতজ্ঞতা জানাতে পরীমনি সোমবার রাতে গণমাধ্যমকর্মীদেরকে তার বাসায় আবার আমন্ত্রণ জানান।
গত বুধবারের ঘটনাপ্রবাহের আবার বর্ণনা দেয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তার অমির ভূমিকাও বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
পাশে থাকার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে পলী বলেন, ‘আমি অনেক সাহস পাচ্ছি আরও শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর জন্য। সবার যে সাপোর্টটা দিয়েছে, এ জন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এটা আপনারা ছাড়া সম্ভব হতো না।’
তিনি বলেন, ‘আমি আসলে সত্যি সাহস পাচিছ। আমার আইনের ওপর আস্থা আছে। আসলে আমার তো মামলাই নেয়া হচ্ছিল না। এখন সবাই যেহেতু আমার পাশে আছে, আমার তো আসলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’
আপনি ঘুরে দাঁড়াবেন?- এমন মন্তব্যের জবাবে পরী বলেন, ‘এত সাহস আপনারা আমাকে দিয়েছেন, এরপর কীভাবে আমি ভেঙে পড়ব? আমার কোনো সাপোর্ট ছিল না, তখনি ভেঙে যাইনি, আজ সবাই আপনারা আছে, আমি কেমনে ভাঙব বলেন?’
আপনি কাজে ফিরবেন কি না- এমন প্রশ্নে বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি।’





