Home আলোচিত ‘নামাজ পড়তে যাওয়ায়’ যুবককে চাকরিচ্যুতের অভিযোগ

‘নামাজ পড়তে যাওয়ায়’ যুবককে চাকরিচ্যুতের অভিযোগ

0
103

নজর২৪, হবিগঞ্জ- হবিগঞ্জে অনুমতি ছাড়া জুমআর নামাজ পড়তে যাওয়ার অপরাধে আরএফএল বেস্ট বাই শোরুম এক্সিকিউটিভকে চাকরি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে মারুফ খান নামে ওই যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানান।

 

মারুফ খানের অভিযোগ, পবিত্র জুম্মার নামাজ পড়তে মসজিদে যাবার অপরাধে শোরুম থেকে তাকে বের করে দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, চাকরি করি তাই বলে কি আমি আমার ধর্ম ও নামাজ আদায় করতে পারবো না। নামাজ পড়তে মসজিদে গেছি এটাই কি আমার অপরাধ?

 

এদিকে মারুফের চাকরি হারানোর সেই ফেসবুক পোষ্টটি ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় পোষ্টটিতে ১১ হাজার লাইক ও ৭ হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন। এছাড়া মন্তব্য করেছেন ৪ শতাধিকেরও বেশি মানুষ।

 

এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় হয়েছে।

 

মারুফের সেই পোষ্টটি নজর২৪ পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

 

#নামাজ পড়ার অপরাধে চাকরি ও কাজ থেকে বিতাড়িত!!

 

আমি মারুফ খান, আরএফএল বেস্ট বাই, হবিগঞ্জ সদর শোরুমের একজন সেলস্ এক্সিকিউটিভ। আমি একজন মুসলমান! নামাজ আদায় করা আমাদের ইসলাম ধর্মে প্রত্যেকের জন্য ফরয। আর সেই ফরয নামাজ (পবিত্র জুম্মার নামাজ) পড়তে যাবার অপরাধে আজ আমাকে শোরুম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

 

আজান পরার পর আরএফএল বেস্ট বাই শোরুম, আমাদের হবিগঞ্জ সদরের শোরুম ম্যানেজারকে ফোন দেই কিন্তু উনি ফোন না ধরে কেটে দেন। উনি ফোন ধরবেন কিভাবে উনি তো প্রতিদিনের ন্যায় কাজ ছেড়ে বাহিরে গিয়ে আরাম করছিলেন। উনি ফোন না ধরাতে আমি কাপড় বদলিয়ে আমরা ৩জন শোরুম বন্ধ করে মসজিদে চলে যাই।

 

ঠিক ঐ মূহুর্তে ম্যানেজার আমাকে ফোন দিয়ে বলেন যে, আমি কার অনুমতি নিয়ে শোরুম বন্ধ করছি, সে আমাকে বলে যে আমি চাকরি করতে চাই না নামাজ পড়তে চাই?

 

 

আমি তখন বললাম স্যার চাকরি করি বলে কি আমাকে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে? উনি আমাকে ঐ কথা শুনে হুমকি দেন যে আমাকে ঘাড় ধরে শোরুম থেকে বের করে দিবেন এবং আমাকে চাকরি থেকেও বের করে দিবেন। ঐ মূহুর্তে আমি নামাজ না পড়ে মসজিদ থেকে চলে আসি এবং আইসা শোরুম খুলি।

 

তখন ম্যানেজার আইসা আমাকে শোরুম থেকে বের হয়ে যেতে বলে। আমি কিছু বুঝে উঠতে না পেরে কি করবো না করবো কোনো কিছু না ভেবে চলে আসি। শুধুমাত্র মসজিদে গিয়ে পবিত্র জুম্মার নামাজ পড়ার অপরাধে আমাকে কাজ ও শোরুম থেকে বের করে দেয়া হলো।

 

চাকরি করি তাই বলে কি আমি আমার ধর্ম ও নামাজ আদায় করতে পারবোনা। নামাজ পড়তে মসজিদে গেছি এটাই কি আমার অপরাধ?

 

নামাজ পড়া যদি অপরাধ হয়ে থাকে আর সেই অপরাধে যদি চাকুরিচ্যুত হতে হয় তাহলে আমি আমার আল্লাহ ও রাসুলের বিধান পালন করতে গিয়ে সেই চাকরি করবোনা। দোয়া করবেন, আল্লাহ ভরসা।

 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় বেস্ট বাই এর ম্যানেজার জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সে মাত্র এক মাস হলো চাকরিতে জয়েন করেছে, তার অন্য সমস্যা আছে। এ অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here