আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে মুনিয়ার বোনকে হুমকি

নজর২৪ ডেস্ক- গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহানকে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তার বোনের (মুনিয়ার) মত অবস্থা হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান বলেন, ‘কিছু অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে বলছেন তারা। অন্যথায় আমার পরিণতিও আমার বোনের মত হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।’

 

গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয় গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে। এঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

 

এদিকে, অভিযুক্ত বসুন্ধরা এমডি হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়েছেন। তবে তার জামিন শুনানি হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন আদালত। আদালত সূত্র জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে আগাম জামিন শুনানি বন্ধ থাকবে।

 

কলেজ পড়ুয়া মুনিয়ার মৃত্যুর দিন রাতেই আনভীরের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের হয়েছে গুলশান থানায়। মামলাটি করেছেন মুনিয়ার বোন নুসরাত। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এক বন্ধুর মাধ্যমে পরিচয়ের পর ২০১৯ সালে আনভীর মুনিয়াকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনভীরের পরিবার মুনিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারে। তখন আমার বোনকে (মুনিয়াকে) আনভীরের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন তার মা।

 

এ ঘটনার পর আনভীর মুনিয়াকে কৌশলে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। গত মাসের (মার্চ) ১ তারিখে গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার বি/৩ ফ্যাটটি ভাড়া নেন আনভীর। ১ মার্চ থেকে মুনিয়া সেই ফ্ল্যাটেই ছিলেন এবং আনভীর মাঝে মাঝে ওই ফ্ল্যাটে আসা যাওয়া করতেন।

 

গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় ইফতার পার্টিতে গিয়ে মুনিয়া ছবি তোলেন। ফ্ল্যাট মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট করলে সেটি আনভীরের পরিবারের একজন দেখে ফেলেন এবং আনভীরকে জানান। বিষয়টি নিয়ে আনভীর মুনিয়াকে বকাঝকা করেন এবং হুমকি দেন। ২৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে মুনিয়া তার মোবাইল নম্বর থেকে নুসরাতকে ফোন করে কান্নাকাটি শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘আনভীর আমাকে বিয়ে করবে না, সে শুধু আমাকে ভোগ করেছে। এছাড়া আমাকে সে ‘মনে রাখিস তোকে আমি ছাড়ব না’ বলে হুমকি দিয়েছে।

 

এজাহারে বলা হয়েছে, মুনিয়া নুসরাতের কাছে চিৎকার করে বলেন, ‘যেকোনো সময় আমার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তোমরা তাড়াতাড়ি ঢাকায় আসো।’

 

মোসারাত জাহান মুনিয়া মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সোমবার রাতে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

 

গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, মুনিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। বাড়ির মালিক, মালিকের মেয়ের জামাইসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলা সংক্রান্ত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তারা। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পেলেই অভিযুক্ত আনভীরকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেবে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *