নজর২৪ ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও তার ভাই মুহতামিম মাহফুজুল হকের নির্দেশে জামিয়া রহমানিয়া মাদরাসার ৭০-৮০ জন ছাত্র বাদীসহ অন্যান্যদের মসজিদ থেকে বের করে দেয়।
বাদীকে মারধর করে বাদীর সঙ্গে থাকা একটি স্যামসাং মোবাইল, নগদ সাত হাজার টাকা, ২০০ ডলার, ব্র্যাক ব্যাংকের একটি ডেবিট কার্ড ও একটি মানিব্যাগ চুরি করে নিয়ে যায় আসামিরা। বাদীকে পুনরায় মসজিদে প্রবেশ করলে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয় তারা।
সোমবার (১৯ এপ্রিল) মামুনুল হককে রাজধানী মোহাম্মদপুর থানার মামলায় আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাজেদুল হক। এ সময় তিনি আসামির সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। ওই আবেদনে এসব কথা উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনে তিনি আরও বলেন, গত বছরের ৬ মার্চ মোহাম্মদপুর সাত মসজিদ এলাকায় সাত গম্বুজ মসজিদে রাত সাড়ে ৮টায় আসামি মাওলানা মো. মামুনুল হক ও তার ভাই মুহতামিম মাহফুজুল হকের নির্দেশে জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসার ছাত্র আসামি ওমর এবং ওসমান বাদী ও তার সঙ্গে থাকা অন্যদের আমল করতে নিষেধ করে। তাদের ধর্মীয় কাজে আঘাত করে ও মসজিদ হতে বের হয়ে যেতে বলে আসামিরা।
বাদী প্রতিবাদ করলে আসামি মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক ও তার ভাই মুহতামিম মাহফুজুল হক নির্দেশে মাদরাসার আরও ৭০-৮০ জন ছাত্র বের হয়ে বাদীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। আসামি ওমর ও ওসমান তাদের হাতের লাঠি দিয়ে বাদীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। আসামিদের লাঠির আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মসজিদের ভেতরে শুয়ে পড়েন বাদী।
এরপর আসামিরা বাদীর কাছে থাকা একটি স্যামসাং মোবাইল, নগদ সাত হাজার টাকা, ২০০ ডলার ও ব্র্যাক ব্যাংকের একটি ডেবিট কার্ডসহ বাদীর একটি মানিব্যাগ নিয়ে যায়। বাদীকে পুনরায় মসজিদে প্রবেশ করলে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয় আসামিরা।
আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, আসামির (মামুনুল হক) বিরুদ্ধে মামলায় জড়িত থাকার সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়। আসামি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে ধর্মভীরু মুসলমান ও মাদরাসার ছাত্রদের উস্কানি দেয়। আসামির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আসামি মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও অন্যান্য আসামিদের চেনেন।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ ও তাদের গ্রেফতারসহ চোরাই মাল উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে এবং অপর আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে আসামি মামুনুল হকের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে সোমবার বেলা ১১টা ৮ মিনিটে মামুনুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে আদালতের হাজত খানায় রাখা হয়। সেখান থেকে এজলাসে নেওয়া হয়। পরে শুনানি শেষে বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটের দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
মারধর, হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাতে গুরুতর জখম, চুরি, হুমকি ও ধর্মীয় কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে গোলযোগের অভিযোগ এনে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোহাম্মদপুর থানায় মামুনুলের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেন।
সোমবার (১৯ এপ্রিল) রিমান্ড শুনানি শেষে মামুনুলের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ সাংবাদিকদের বলেন, মামুনুলের বিরুদ্ধে মুসল্লিদের মসজিদ থেকে এক ব্যক্তিকে বের করে দেওয়া নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বের করে দেওয়ার সময় তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, গতকাল গ্রেফতারের পর তাকে দীর্ঘসময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সেজন্য তাকে আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে আদালতকে জানিয়েছি।





