মামুনুল হককে মুক্তি না দিলে ‘কঠোর আন্দোলন’

নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে দ্রুত মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। রোববার (১৮ এপ্রিল) বেলা ৩ টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা ইসমাঈল নূরপুরী, নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা আলী উসমান, মুফতি সাঈদ নূর ও যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন বিবৃতিতে তাকে মুক্তির দাবি জানান।

 

আরও পড়ুন-

মাদরাসা থেকে যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন মামুনুল হক

প্রমাণ পেয়েই মামুনুল হককে গ্রেফতার করেছি: ডিসি হারুন

মামুনুল হকের মাদ্রাসা শান্ত, রাস্তায় বিপুল পুলিশ

 

বিবৃতিতে খেলাফত মজলিস নেতারা বলেন, রোববার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১২টায় আল্লামা মামুনুল হককে মুহাম্মদপুরের জামিআ রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এভাবে রমজান মাসে আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও গ্রেফতার করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

 

‘হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধ এবং আটকদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় আলেম-উলামারা ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

 

তারা আরও বলেন, হয়রানি ও গ্রেফতার করে আলেম-উলামাদের আন্দোলনকে ঠেকানো যাবে না। দেশের জনগণ ইসলাম ও দেশের প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত।

 

এর আগে আজ রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম ও ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের যৌথ অভিযানে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে। তাকে গ্রেপ্তারের পর তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের কার্যালয়ে নেয়া হয়।

 

মামুনুলকে গ্রেফতারের বিষয়ে রোববার (১৮ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ।

 

ডিসি হারুন বলেন, ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তদন্ত চলছিল। তদন্তে হেফাজত নেতা মামুনুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ায় আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তা আপনারা জানেন।

 

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি হারুন বলেন, বায়তুল মোকাররম, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারির ঘটনার পর থেকেই তিনি নজরদারিতে ছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আপাদত মোহাম্মদপুর থানার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রিসোর্ট-কাণ্ডে রাজধানীর পল্টন থানা ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দুটি মামলা হয় মামুনুলের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর তাণ্ডবের ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।

 

হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবকে গ্রেপ্তারের সময় মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। তবে মাদ্রাসার পরিবেশ ছিল অনেকটাই শান্ত।

 

মামুনুলকে গ্রেপ্তারের সময় মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের সামনের গলিতে কয়েক মিনিট বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। তবে পরিস্থিতি ছিল পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার পর কয়েকটি গাড়িতে আসা দাঙ্গা পুলিশ মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে অবস্থান নেয়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদাপোশাকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাদ্রাসার গলিতে একটি পাজেরো গাড়ি নিয়ে ঢোকেন।

 

এর কিছুক্ষণ পরেই মামুনুল হককে নিয়ে তারা দ্রুত বের হয়ে যান। গাড়ি বের হওয়ার সময় মামুনুল হককে দেখা গেছে পেছনের সিটে দুজনের মাঝে বসা।

 

মামুনুলকে নিয়ে যাওয়ার সময় মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী গাড়ির পিছু পিছু মিছিল নিয়ে মূল রাস্তায় ওঠার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের বাধায় শেষ পর্যন্ত তারা ফিরে যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *