নজর২৪, ঢাকা- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে একটি রিসোর্টে অবরুদ্ধ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক মুক্ত হয়েছেন। মুক্তির পরপরই হেফাজত কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এরপর শনিবার (০৩ এপ্রিল) রাত ১০টায় নিজের ভেরিফাইড আইডি থেকে লাইভে আসেন তিনি।
ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, ‘অনেকের মধ্যে আজকের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেক বিভ্রান্তিও হচ্ছে। মূলত আসল ঘটনা জানাতেই আমি ফেসবুক লাইভে এসেছি। আমার সাথে আমার বড় ভাই ও মেজ ভাইও আছেন।’
মামুনুল হক আরও বলেন, ‘টানা পরিশ্রমের কারণে আমার একটু বিশ্রামের প্রয়োজন ছিল। এ কারণে আজ সোনারগাও গিয়েছিলাম। সাথে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী ছিল। পুলিশ আমার থেকে যাবতীয় তথ্য নিয়ে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে। আমার দ্বিতীয় স্ত্রী আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাবেক স্ত্রী ছিলেন। তাদের দুটি সন্তানও আছে। এরপর কিছু বন্ধুবান্ধবের উপস্থিতিতে পারিবারিকভাবে আমি তাকে বিয়ে করি।’
তিনি বলেন, ‘সেখানে স্থানীয় কিছু সংবাদকর্মীদের সাথে কিছু যুবলীগ ও সরকারদলীয় লোক আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। তারা লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে হামলা ও আক্রমণ করেছেন। দেশের মানুষ আমার বক্তব্য সেখানেও শুনেছে ও দেখেছে। এরপর সেসব ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ওই রিসোর্টে এসে আমাকে উদ্ধার করে। তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমি জনতাকে শান্ত করি ও তাদের নিয়ে উক্ত স্থান ত্যাগ করি। আমি আহবান করবো এই বিষয় নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। সবাই শান্ত থাকুন। জানমালের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করবেন না। এটাই আমার অফিসিয়াল বক্তব্য।
এর আগে রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে স্ত্রীসহ অবরুদ্ধ হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে ছিনিয়ে নেয় হেফাজত কর্মীরা। এসময় রিসোর্টের মূল ফটকসহ ভেতরে ভাঙচুর চালায় কয়েকশত উত্তেজিত হেফাজত কর্মী-সমর্থক। পরে তাকে স্থানীয় একটি ঈদগাহে নিয়ে যায়।
সেখানে মামুনুল হক তার কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সাংবাদিক ও পুলিশ আমার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করেনি। কিছু বাইরের লোক খারাপ আচরণ করেছে। আমি আমার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছিলাম। আপনারা শান্ত থাকুন।’





