কক্সবাজারের শীর্ষ ইয়াবা কারবারি এহেসান গ্রেপ্তার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: দেশের পর্যটন রাজধানী হিসেবে পরিচিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শাণিত রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। ১২০ কিলোমিটারের সমুদ্র সৈকত ঘিরে প্রচীন ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থানের কারণে প্রতি বছর কক্সবাজারে ছুটে আসেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক। আর শুধু সমুদ্র সৈকত নয় পাশাপাশি রয়েছে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানও।

 

নিজ দেশে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গা, দেশী-বিদেশী পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় র‍্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সরকারের যত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তা থাকা সত্ত্বেও চাপা আতঙ্কে থাকেন কক্সবাজার শহরসহ আশেপাশের একালার বাসিন্দারা।

 

নতুন বাড়ি তুলতে গেলেই দিতে হয় চাঁদা। এটি যেন অলিখিত নিয়ম! না দিলেই শুরু হয় উপদ্রব, বেরিয়ে আসে সন্ত্রাসীদের গুলি। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পাঠানো হয় চাঁদা দাবি করে চিরকুট। বর্ধিত পর্যটক শহর হওয়ায় ওই এলাকায় বড় অপরাধ হয় জমি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে মধ্যস্থতা আর জমি দখল ও পাল্টা দখলের ক্ষেত্রে।

 

সন্ত্রাসীর আতঙ্কে থাকেন ডেভেলপার ব্যবসায়ী থেকে বাড়ির মালিকরা। পান থেকে চুন খসলেই সন্ত্রাসীরা ধরে নিয়ে নির্যাতন করে তাদের টর্চার সেলে। কক্সবাজারের বুকে এ যেন এক আতঙ্কিত জনপদের নাম টেকপাড়াসহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকা। ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এমন সব ভয়ঙ্কর অপরাধের চিত্র।

 

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে কক্সবাজার শহরের মূর্তিমান আতঙ্কের নাম এহেসান উল্লহ। টানা কয়েক বছর কক্সবাজার শহরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল তিনি। শহরে ছিনতাই, ডাকাতি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, ভাড়ায় জমি দখলসহ নানা অপকর্মে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল এহেসানের। নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীও ছিল তার।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে এক সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে সরে আসে এহেসান। পেশা পাল্টিয়ে ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে যায়। ধীরে ধীরে বড় মাপের ইয়াবা কারবারিতে পরিণত হন তিনি। ইয়াবা কারবার করে মাত্র কয়েক বছরে কোটিপতি এহেসান।

 

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শহরের আদালত চত্বর থেকে এহেসানকে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল গিয়াস।

 

সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, এহেসানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এরমধ্যে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও আছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে নির্ভয়ে ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশের সাথে সব সময় ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল এহেসানের। কিন্তু জেলা পুলিশের গণবদলীর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কোন লবিং বা তদবির কাজে আসেনি। একারণে এহেসান ধরা পড়েছে।

 

জানা গেছে, সন্ত্রাসী জগতের মত ইয়াবা জগতেও বিশাল একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এহেসানের। এহেসানের ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম সক্রিয় সদস্যরা হলেন- বাসটার্মিনাল এলাকার আবুল কালাম ওরফে বড় দা, খুরুশকুলের জিয়াবুল হক, খুরুশকুল রাস্তার মাথার ইমতিয়াজুল রণি, তাজওয়ারুল হক রাধি, থানার রাইটার আনোয়ার, গোমাতলীর সাইদ আনোয়ার, দিদারুল করিম প্রমুখ।

 

জানা গেছে, দুই বছর আগে ক্রসফায়ারে নিহত হয় টেকনাফের ফ্রুট ব্যবসায়ী বেলাল। বেলালের প্রায় এক কোটি টাকা এহেসান ও আবুল কালাম ওরফে বড় দা’র কাছে জমা ছিল। বেলালের মৃত্যুর পর ওই টাকা আত্মসাৎ করে তারা।

 

ইয়াবা কারবার করে বর্তমানে বিপুল অর্থ এবং অঢেল সম্পদের মালিক এহেসান। বর্তমানে ৩ টি ডাম্পার আছে এহেসানের। সেই ডাম্পারগুলো ব্যবহার হয় খুরুশকুলে পাহাড় নিধনে। খুরুশকুলে খতিয়ানভুক্ত জমি কিনেছেন প্রায় ১০ কানি। এছাড়াও সরকারি জমি দখল করেছেন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কানি।

 

শুধু নিজে পরিবর্তন হয়নি এহেসান। পাল্টে দিয়েছেন শ্বশুর বাড়ির জীবনযাত্রাও। পেশকারপাড়ায় শ্বশুর বাড়ির টিনের ঘরকে করে দিয়েছেন বহুতল ভবন। ব্যাংকেও বিপুল অর্থ আছে এহেসানের। টেকপাড়ার আলোচিত এক কোটি ইয়াবা লুটের ঘটনায় এহেসানও একটি গ্রুপে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *