Home দেশের খবর বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার পল্লীতে কুমড়ো বড়ি তৈরীর ধুম

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার পল্লীতে কুমড়ো বড়ি তৈরীর ধুম

0
111

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: ভোজন রসিকদের জন্য শীত একটি বিশেষ ঋতু, এই শীতেই বাজার ভরে উঠে নানারকম সবজীতে। আর এই শীত এলেই যেন অন্যান্য খাবারের সাথে ভোজন রসিকদের জন্য কুমড়ো বড়ি চাই ই চাই।

 

শীতকাল কুমড়ো বড়ি ভোজনের উপযুক্ত সময়। রান্নায় সব সবজির সাথে যেন কুমড়ো বড়ি যোগ করে আলাদা একটি স্বাদ। তাইতো বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার তালোড়া শাবলা কালিবাড়ি গ্রামে কুমড়ো বড়ির মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত চারদিক। হিন্দু ও মুসলিমের যৌথ বসবাসের এই গ্রামের সবাই সমপৃক্ত কুমড়ো বড়ির তৈরীর সাথে।

 

দীর্ঘদিনের এই পেশা শতাধিক পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস। বাড়ির স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েসহ প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যদের যেন বিশ্রাম নেবার সময় নেই। বছরের অনান্য সময় যদিও কুমড়ো বড়ি তৈরী হয়, তবে শীত এলেই যেন কয়েক গুন বেড়ে যায় কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজ। ফাঁকা মাঠে বাঁশের উচু মাচা বেঁধে সারাদিন রোদে শুকোনো হয় কুমড়ো বড়ি।

 

এদিকে দেখা যায় বাড়ির সব বয়সি মানুষরা একসাথে কাজকর্ম করছে। বাজার থেকে মাসকলাই কিনে এনে যাঁতায় পিষছে পুরুষরা, মহিলারা সেই কলাইয়ে ডাল বাড়ির উঠানে ও আঙ্গিনায় কুলাতে ঝাড়ছে।

 

আগের দিন বিকেল বেলা মাসকলাইয়ের ডাল পানিতে ভিজিয়ে রেখে, ভোর রাত থেকে মাশকলাই ডাল, চালকুমড়ো, কালো জিরা ও বিভিন্ন মশলা ভালভাবে ছেঁচে সকালে তা নেটের সাথে বাঁশের মাচায় বড়ি বানিয়ে শুকাতে দেওয়া হয়। গড়ে তিনদিন শুকাতে হয় কুমড়ো বড়ি, তবেই তা বিক্রির জন্য বা রান্নার জন্য উপযোগী হয়। প্রযুক্তির ব্যবহার ও ক্রেতার আকর্ষন বাড়ানোর জন্য কুমড়ো বড়ির গায়ে টানা দাগ বা আলপনার ছাপও দেওয়া হচ্ছে।

 

কুমড়ো বড়ির সারাদেশে ব্যপক চাহিদা ও বড়ির গুনগত মান থাকায় প্রতি কেজি ১৫০টাকা থেকে ২০০টাকায় ক্রেতারা তাদের বাড়ি থেকে পাইকারী নিয়ে যাচ্ছে। শাবলা কালিবাড়ি গ্রামের কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র মোহন্ত বলেন, আমরা সারা বছরই কুমড়ো বড়ি তৈরী করি।

 

তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় কাঁচা মালের মতো কম দামেও বিক্রয় করতে হয়। ভালো সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে তা হতো না। তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কুমড়ো বড়ি তৈরী করে ইটভাটার আগুনে একদিনেই শুকিয়ে বিক্রয় করে মানুষদের ধোঁকা দিচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here