মো. নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ হাসান ও নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজীসহ ১৪ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজ শাহরিয়ার এ আদেশ দেন। সরকারি সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) সঞ্জিব বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিএনপির ২২ নেতাকর্মী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন ও সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনসহ ৭ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। বাকি ১৪ জনকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো নেতাকর্মীরা হলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ হাসান, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামীম তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হোসেন তুহিন, বিএনপি নেতা চন্দন পোদ্দার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিটন, সাধারণ সম্পাদক সরদার সাফায়াত হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু, জেলা তাঁতি দলের সভাপতি বাচ্চু হাসান খান, যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম, ইয়াসির আরাফাত মিঠু, সাদ্দাম হোসেন এবং আতিকুর রহমান খালেক।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত পদযাত্রার কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেয়। তাদের পদযাত্রার কোনো অনুমতি ছিল না। পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে সদর থানার পরিদর্শক ফিরোজ কামালসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়।
পুলিশ বিএনপির কার্যালয় থেকে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করে। এ ঘটনায় পুলিশের এসআই দেবাশীষ মোদক বাদী হয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ বিএনপির ২২ নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন পুলিশের লাঠি চার্জে বিএনপির ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনায় উল্টো পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করে। ঈদের আগমুহূর্তে নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এসএইচ
