সাইফুল ইসলাম মুকুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: রংপুর অঞ্চলে প্রচন্ড হাঁড়কাঁপানো শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন তাপমাত্রা কমছে সেই সাথে ঘনকুয়াশা আর হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। শীতের কবল থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে এক গর্ভবতী নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন।
মারাত্মক দগ্ধ হয়ে গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৮ জন ভর্তি হয়েছে। দগ্ধ রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বার্ন ইউনিটে জায়গা না পেয়ে ফ্লোরিং করতে রোগীদের। শীতের ব্যাপকতার পাশাপাশি দগ্ধ রোগীদের মিছিল প্রতিদিন বাড়তে শুরু করেছে।
বর্তমানে অর্ধশতাধিক আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধিন আছে। তাদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
বার্ন ইউনিটের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা, এম এ হামিদ পলাশ এক জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগুন পোহাতে গিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫ জন দগ্ধ রোগী ভর্তি হচ্ছে। দগ্ধদের সকলেই নারী ও শিশু সে জন্য আগুন পোহাতে সাবধানতা অবলম্বন করা এবং আগুন না পোহাতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এদিকে গত ৪ দিনে নিউমোনিয়ূা আর কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ জনে।
অপরদিকে হাসপাতালের ৯ ও ১০ নম্বর শিশু ওয়ার্ড এবং নিবিড় পরিচর্জা কেন্দ্রে তিল ধারনের জায়গা নেই। ফলে আক্রান্ত শিশুদের একটি বেডে তিন জন করে শিশুকে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দুটি ওয়ার্ডে ৬শ শিশু চিকিৎসাধিন আছে।
বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে শীতেদর কবল থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে বুল্লি বেগম নামে এক গর্ভবতী নারী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধিন অবস্থায় সকালে মারা গেছে। তার নাম বাড়ি দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি এলাকায়।
বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা, এম এ হামিদ পলাশ জানান, ওই নারীর শ্বাস নালী সহ শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে গিয়েছিলো। স্বজনরা জানিয়েছে বেডে জায়গা না পেয়ে শতাধিক শিশুকে ফ্লোরে রাখা হয়েছে। সরেজমিন শিশু ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা গেছে একটি বেডে অসুস্থ শিশুদের তিন জনকে ভর্তি করে অমানবিক ভাবে রাখা হয়েছে। একটা স্যালাইনে তিনটি পাইপ দিয়ে তিনটি শিশুকে দেয়া হচ্ছে।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছে হাসপাতাল থেকে স্যালাইন এমনকি নিডিল সহ সব ঔষধ বাইরে থেকে কিনে আনতে বকাধ্য করছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। ফলে সহায় সম্বলহীন পরিকবার গুলো অর্থের অভাবে তাদের অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা করাতে পারছেনা।
সার্বিক বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ডা, শরীফুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্বীকার করে হাসপাতালে বেডের চাইতে তিনগুন রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমসিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা বলে জানান তিনি।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়ূাবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন,তাপমাত্রা গত ৩ দিন ধরে ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। সবচেয়ে সমস্যা হয়েছে হিমেল বাতাস যা শীতের তীব্রতাকে বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানান তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।
চিকিৎসকরা জরুরী প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের ঘরের বাইরে বের না করতে অভিভাবককদের প্রতি আহবান জানিয়েছে।





