চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা রোজিনা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বয়স নিয়ে কটাক্ষের স্বীকার হয়েছেন। যদিও যুগ যুগ ধরে এই উপমহাদেশে অভিনেত্রীরা বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তারুণ্যকে জয় করে দর্শকদের বিমোহিত করে চলেছেন।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী রোজিনা আক্ষেপ করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইদানীং আমার ব্রাইডাল ফটোশুটের কিছু স্থিরচিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কিছু ইউটিউবার ছবিগুলো নিয়ে ট্রল করছে বিভিন্নভাবে। ওইসব মূর্খ বিবেকহীন ব্যক্তির হীনমন্যতা প্রকাশ পাচ্ছে এর মাধ্যমে।
আমরা যারা সেলিব্রেটি তাদের সব দর্শক যে পছন্দ করবেন এমন নয়। তাই বলে একজন নারী সেলিব্রেটিকে অসভ্য ভাষায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হেয় করা খুবই দুঃখজনক।
যারা এসব করছেন তারাও কোনো নারীর মাধ্যমেই পৃথিবীতে এসেছেন। তাদের পরিবারের মা-বোন রয়েছে। একজন নারীকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অপমান মানেই সমগ্র নারী সমাজকে অপমান করার শামিল।
রোজিনা আরও বলেন, সুস্থতা আল্লাহ্র প্রদত্ত দান। আমি যদি এই বয়সে এসে মানসিক শক্তি নিয়ে কাজ করতে পারি সেটার জন্য তো আমাকে অভিনন্দন জানানো উচিত, তাই না।
আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, সংসদের মাননীয় স্পিকার সবাই নারী। সবাই যার যার ক্ষেত্রে সম্মানিত ব্যক্তি। যেসব ব্যক্তি সোশ্যাল হ্যান্ডেলে নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত।
উল্লেখ্য, রোজিনা চলচ্চিত্রে আসার আগে মঞ্চনাটক করতেন। তখন তিনি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনেও কাজ করেন। ১৯৭৬ সালে ‘জানোয়ার’ চলচ্চিত্রে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন। এফ কবীর পরিচালিত ‘রাজমহল’ সিনেমায় একক নায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
আশির দশকে প্রথম সারির নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। শুধু দেশে নয়, খ্যাতনামা এই অভিনেত্রী পশ্চিমবাংলার তাপস পাল, মিঠুন চক্রবর্তী, পাকিস্তানের জনপ্রিয় নায়ক নাদিমসহ ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত বহু অভিনেতার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন।
১৯৮০ সালে ‘কসাই’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্বঅভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন রোজিনা। ১৯৮৮ সালে ‘জীবনধারা’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি বাচসাস পুরস্কারও পেয়েছেন। ‘চোখের মণি’, ‘সুখের সংসার’, ‘সাহেব’, ‘তাসের ঘর’, ‘হাসু আমার হাসু’, ‘হিসাব চাই’, ‘বন্ধু আমার’, ‘কসাই’, ‘জীবনধারা’সহ তার অভিনীত অধিকাংশ সিনেমাই ব্যবসাসফল।
