Home দেশের খবর চট্টগ্রাম মীরসরাইয়ে জনবসতিতে কাঠ পোড়াচ্ছে কয়েল কারখানা, দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে স্থানীয়রা

মীরসরাইয়ে জনবসতিতে কাঠ পোড়াচ্ছে কয়েল কারখানা, দূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে স্থানীয়রা

0
205

রাজিব মজুমদার, মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের হাইওয়ে থানা সংলগ্ন সোনাপাহাড় এলাকায় জনবসতিতে একটি কয়েলের কাঁচামাল তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে পরিবেশ দূূূূূূূূূূূূূূূূূূষণের অভিযোগ ওঠেছে। তিন তলা বিশিষ্ট বসতঘরের পেছনে কারখানায় কয়েল তৈরির কাঁচামালকে বনের কাঠ দিয়ে পোড়ানোর ফলে ধোঁয়া দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫-৬ জন শ্রমিক কারখানায় বড় পাঁচটি চুল্লিতে মায়ানমার থেকে আমদানীকৃত গোন্ডি (এক ধরনের পাহাড়ি কচু) বড় বড় কাঠের টুকরা দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। ধোঁয়ার কুন্ডলীতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, কাঁচামাল পোড়ানোর দুর্গন্ধ নাকে লাগছে। কারখানায় ঝুঁকিতে কাজ করছেন শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে কিছু করা হয়নি। মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাফস ছাড়া কাজ করছে শ্রমিকরা।

জানা গেছে, ১২ ফুট বাই ৮ ফুটের প্রতিটি চুল্লিতে পোড়ানো হয় প্রতিদিন ৫০-৬০ মণ কাঠ। পোড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠের গুড়ি। বনাঞ্চল ধ্বংস করে এভাবে চুল্লিতে পোড়ানো অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয় এতে পরিবেশের অনেক অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

কারখানার শ্রমিক খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি এলাকার কিশোর মোঃ খলিল ও শাকিব খান জানান, কারখানাটিতে মশার কয়েল এবং আগরবাতির কাঁচামাল উৎপাদন করা হয়। আমরা ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরি করি। কারখানার কাঁচামাল ও তৈরিকৃত মাল কোথায় যায় তারা জানেনা বলে জানান।

কারখানাটির জায়গার মালিক মোহাম্মদ দাউদ বলেন, কারখানা স্থাপনের বৈধ কাগজপত্র আছে জেনে ভাড়া দিয়েছি তবে কাগজপত্র দেখিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার ম্যানেজার বাবলু দে জানান, কারখানাটি আমার বড় ভাইয়ের। মা ট্রেডার্স নামে মায়ানমার থেকে কয়েল তৈরির কাঁচামাল গোন্ডি সংগ্রহ করে এখানে শুকায়। পরে ঢাকায় বিভিন্ন কয়েল ও আগরবাতি কারখানায় পাঠানো হয়। বৃষ্টির কারণে কাঁচামালগুলো আগুন দ্বারা শুকানো হচ্ছে পরিবেশ দূষিত হলে আমরা বন্ধ করে দেবো।

পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে জানতে চাইলে কারখানার মালিক ছোটন চন্দ্র দে জানান, আমরা এখানে ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছি। আমরা নিয়মিত আয়কর পরিশোধ করি। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই বলে তিনি স্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাষ্টার বলেন, মা ট্রেডার্স নামে তথ্য গোপন করে যদি কয়েল তৈরির কাঁচামালের কারখানার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করে তাহলে আমরা ইউএনও স্যারের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

কারখানার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান বলেন, কারখানা স্থাপনের তথ্যটি আমার জানা নেই। তবে জনবসতিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এভাবে কাঠ পোড়ানো অবৈধ। আমরা শীঘ্রই এই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here