Home আলোচিত টাঙ্গাইলে ইউএনও কান্ড: ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কায় সেই কলেজছাত্রী

টাঙ্গাইলে ইউএনও কান্ড: ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কায় সেই কলেজছাত্রী

0
98

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর হোসেন কর্তৃক কলেজছাত্রীর ধর্ষণের অভিযোগটি এখন সারাদেশে সমালোচনার টপটাউনে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সাফাই গাইছেন অনেকে।

এদিকে, ইউএনও প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে ওই কলেজছাত্রীর পরিবারে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। অভিযুক্ত মনজুর হোসেন বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের বরাবর আবেদনের পাশাপাশি মনজুর হোসেনেকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী। আবেদনের পর এ ঘটনা তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই কলেজছাত্রী বলেন, ‘ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কায় অবশ্যই আছি, যেহেতু তিনি ইউএনও আর আমি একজন ছাত্রী। যে তদন্ত করছেন তিনিও একজন বিসিএস ক্যাডার, আর যার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে তিনিও বিসিএস ক্যাডার। এত ডকুমেন্ট দেওয়ার পরেও কলেজছাত্রী হিসেবে আসলে সেখানে আমার কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে সেটাই বড় কথা। তিনি ইউএনও হিসেবে ফ্যাসালিটি পাবেন বা পাচ্ছেন, কিন্তু আমি কতটুকু পাবো সেটাই বিষয়।’

মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর বলেন, ‘লোকমুখে জানতে পারলাম, গাড়ি বাজারের কাছে রেখে ইউএনও নিয়মিত ওই বাড়িতে যেতেন। আর সেখানে এক ঘণ্টা বা দেড় ঘণ্টা কাটাতেন। আমি নিজে কখনও দেখিনি, শুনেছি। যে কোনও ব্যক্তি অপরাধ করলে তার বিচার হওয়াটাই স্বাভাবিক, এটা সবাই চাবে। কেউ অপরাধ করলে সে শাস্তি পাক এটাই আমরা চাই।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সংস্থাটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, ‘এই ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। প্রশাসনের একজন কর্তা ব্যক্তি ধারা এই ধরণের ঘটনা গোটা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের শামিল। অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উৎঘাটন এবং যাতে ভিকটিম ন্যায় বিচার পায় সে পথ প্রশস্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এর আগেও তার (ইউএনও) অনৈতিক সম্পর্কের খবর জেনে তাকে মাঠ প্রশাসন থেকে সরিয়ে নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে তাকে বাসাইল থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, বাসাইলে ইউএনও থাকা কালিন ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে ইউএনও’র পরিচয় হয়। একপর্যায়ে ইউএনও ওই ছাত্রীকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার বাসাইলস্থ সরকারি বাসভবনে নিয়ে যায়। সেখানে বিয়ের আশ্বাসে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ওই ছাত্রী ও মনজুর হোসেন টাঙ্গাইল শহরের কুমুদিনী কলেজের পাশে পাওয়ার হাউজের পেছনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তারা দুই মাস থাকার পর বিয়ের মাধ্যমে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে চাপ দেন ভুক্তভোগী।

তখন ইউএনও জানায়, ভারত ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে বিয়ে করবে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও বিয়ে না করায় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই ছাত্রীকে আইনি সেবা দিচ্ছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here