ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পারাজ। ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য রোমান্টিক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। সেইসব ছবি হতো ত্রিভূজ প্রেমের। প্রায় ছবিতেই তিনি থাকতেন স্যাক্রিফাইসের ভূমিকায়। আপন মনে ভালোবেসে চলা প্রিয়তমাকে বন্ধুর হাতে তুলে দিয়ে সিনেমার শেষদৃশ্য বেদনার করে তুলতেন তিনি।
এজন্য দর্শক তাকে ভালোবেসে কখনো ‘ছ্যাকা খাওয়া নায়ক’ কখনো বা ‘ব্যর্থ প্রেমের নায়ক’, ‘মিস্টার স্যাক্রিফাইস’ বলে ডাকেন। এই চরিত্রগুলোতে সাবলীল অভিনয়ে নব্বই দশকে আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিলো, দর্শক কোনো ছবিতে বাপ্পারাজ আছেন দেখলেই ধরে নিতেন ছবিতে শেষদৃশ্যে করুণ পরিণতির শিকার হবেন এই নায়ক।
আজ ১১ মার্চ বাপ্পারাজের জন্মদিন। এবারের জন্মদিনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। নেই কোনো বাড়তি আয়োজন। বাপ্পারাজ এই তথ্য জানিয়েছেন।
বললেন, আমি তো কোনো ডে–ই সেলিব্রেট করি না। নিজেরটাও না, অন্য কারোটাও না। এসব থেকে এমনিতে বিরত থাকি। ছোট ভাই সম্রাটের পিচ্চিটার করতে হয়।
ভালো লাগে না বলেই করেন না? নাকি অন্য কোনো ইস্যু?
বাপ্পারাজ: ভালোই লাগে না। আমার তো মনে হয়, এ ধরনের উদ্যাপন একটা ইস্যু। অনেককে তো বলতে শুনি, তুমি আমার বার্থ ডে ভুলে গেলা! তো, ভুলে গেছি তো কী হয়েছে? জন্মদিন এলেই কী বা না এলেই কী।
কটা বছর পার হয়ে যাওয়াকে একেকজন একেকভাবে দেখেন। আপনি কীভাবে দেখেন?
বাপ্পারাজ: আমি ইচ্ছা করলেও এই দিনটাকে আটকাতে পারব না। উদ্যাপন করলেও সেটার কোনো বেনিফিট খুঁজে পাইনি। তাই এসবে মোটেও আগ্রইী না। বেকার কাজকর্মের মধ্যে আমি খুব কমই যাই। এসব কাজ আমার কাছে স্ট্রেইট আনপ্রোডাকটিভ মনে হয়।
আপনার বাবা নায়ক রাজ রাজ্জাকের কারণে নিশ্চয় আপনাদের বাসায় এই দিনগুলোর উদ্যাপন একটু বড় পরিসরে হতো?
বাপ্পারাজ: আব্বার চারপাশে কিছু চামচা ছিল, তাদের খাওয়ানোর ইস্যু থাকত। চলচ্চিত্রের একটা গ্রুপকে লালন–পালনের জন্যও করতে হতো। সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে এসব করতে হতো। তাঁর জায়গা থেকে এগুলো তাঁকে করতেই হতো। শুনতে খুব রুড শোনালেও এটাই বাস্তবতা। তবে আব্বারও এসবে খুব একটা আগ্রহ দেখতাম না। কিছু ব্যাপার থাকে না, সমাজে থাকলে এসব করতে হয়—তাই করতে হয়েছে।
আপনার কাছে জীবন কী?
বাপ্পারাজ: জীবন মানেই যন্ত্রণা।
চলচ্চিত্রে আপনাকে ব্যর্থ প্রেমের সফল নায়ক বলা হয়। এটা নিয়ে কী বলবেন?
বাপ্পারাজ: আমি ওই জায়গায় বেস্ট ছিলাম বলেই সবাই এমনটা বলে থাকেন। আমি ১০০ ছবির মধ্যে ১০–১৫টায় ব্যর্থ প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। বাকিগুলো তো নরমাল চরিত্র করেছি। এত ছবির মধ্যে ওই ১০–১৫টা যখন সবকিছু ছাপিয়ে গেছে, লোকে মনে করে, এই ব্যাটা বুঝি ওটাই—ওটাই তো একজন শিল্পীর সফলতা।
আপনার বাস্তব জীবনটা কি এ রকম স্যাক্রিফাইজিং?
বাপ্পারাজ: আমি হাত ওপরে রাখতেই ভালোবাসি। হাত পাততে ভালোবাসি না। পাতব কেন? এটা আমার জীবনেও আছে, ছবিতেও আছে। (হাসি)
বাস্তব জীবনে কি প্রেমে ব্যর্থ হয়েছেন?
বাপ্পারাজ: না, একদমই না। বাস্তবে আমি সফল প্রেমিক। আমার জীবনে তো একটা সাংঘাতিক কাহিনি আছে। আমার প্রেমের কাহিনি তো কেউ জানেই না। বাস্তবে প্রেমের টানে তো প্রেমিকা বিদেশ থেকে চলে এসেছে। এরপর বিয়ে করেছি। তাই বলতে পারি, প্রেমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল।





