দুর্নীতিসহ ১৩ অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরিচ্যুত উপপরিচালক শরীফ উদ্দিন চৌধুরী তার সাবেক কর্মস্থল দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে এসে তার বিরুদ্ধে আনা বেশ কিছু অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছেন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে।
মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি যদি অনেক বাড়ির মালিক হবেন, তাহলে সেগুলোর দখল যেন তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। তিনি যদি প্রভাব খাটিয়ে শাশুড়িকে গ্যাসের সংযোগ দিয়ে দেন, তাহলে সেটি কেন কাটা হচ্ছে না।
চাকরিচ্যুত হলেও শরীফের বিরুদ্ধে দুদকের তিনটি বিভাগীয় মামলা চলছে। সেগুলো নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তাকে ডাকা হয় দুদকে।
দুদক থেকে বের হয়ে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের নানা প্রশ্নের এক ফাঁকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
শরীফ বলেন, ‘বলা হচ্ছে খুলশীতে আমার ৩৭টি বাড়ি আছে। আমার কথা হলো- আমার যা যা আছে, তাহলে তো তা অপরের দখলে। তা আমাকে বুঝিয়ে দেয়া হোক।’
এসময় শরীফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। যে বিষয়ে একটি মিশন-ভিশন রয়েছে। সে মিশন-ভিশন বাস্তবায়ন করতে গিয়েই প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছি। দুদকের সহকর্মী, মিডিয়া সহকর্মী ও মানুষের দোয়ার কারণে আমি গুম হতে রেহাই পেয়েছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর। তিনি ন্যায়বিচারের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর কারণে গুম হওয়া থেকে বেঁচে গেছি।
প্রধানমন্ত্রীকে ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, আপনি আমার মা। মা আমি অসহায়। পরিবার ও বাচ্চা নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। আমি গত দুই সপ্তাহ ধরে ঘুমাতে পারছি না। আমাকে সুযোগ দেওয়া হোক। কমিশনের যত অভিযোগ রয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে পারব। সকল ডকুমেন্টস আমার কাছে রয়েছে। আমাকে সরাসরি অপসারণ করে দুদকের আসার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি আসলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হিসেবে আসতে পারব।
দুঃখজনক হলেও সত্যি আমি অপসারিত হওয়ার পরও বিভাগীয় মামলার হাজিরা দিচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার কাছে খুব বিব্রতকর পরিস্থিতি যে দুদকের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে হাজিরা দিতে এসেছি। আপনারা জানেন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আমাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য আমি অপসারিত হওয়ার পরও বিভাগীয় মামলায় হাজিরা দিচ্ছি। এটা আইনের দৃষ্টিতে কতটুক সাম্য আমি বলতে পারব না। তবে এটা নিয়ে আমি বিব্রত। আমার বিরুদ্ধে তিনটি ডিপি চলমান রয়েছে। প্রথমটা হলো ব্যাংক হিসাব নো-ডেবিট সংক্রান্ত, দ্বিতীয়টা নথি হস্তান্তরে বিলম্ব কেন ও তৃতীয়টা হলো দেরিতে কর্মস্থলে যোগদান কেন?
আজকের বিভাগীয় মামলার বিষয়বস্তু হলো আমি নথি হস্তান্তরে দেরি করেছি কেন? যার তদন্তের দায়িত্বে আছেন উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান। আমি সশরীরে হাজির হয়ে, যাবতীয় প্রমাণ তার কাছে দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি বলতে চাই, আমার কাছে ১৩০টি নথিপত্র ছিল। মামলাগুলো অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও হাই-সেনসিটিভ ছিল। ছয়টি আলমারিতে সেগুলো ছিল। তা আরেকজনকে বুঝিয়ে দেওয়া সময়সাপেক্ষ বিষয়। পটুয়াখালী থেকে আমাকে ফাইল বুঝিয়ে দিতে আসতে দেওয়া হয়নি। গত ২২ আগস্ট নির্দেশনা পাওয়ার পর আমি পাঁচ দিন ধরে নথিগুলো বুঝিয়ে দিই। যারা ফাইলগুলো বুঝে নিয়েছেন, তাদের জিজ্ঞেস করলে মূল ঘটনা জানতে পারবেন।
তিনি বলেন, আমার ঊর্ধ্বতনদের মিসগাইড করা হয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চাকরিবিধি অনুযায়ী কমিশন বরাবর আদেশ রিভিউ করার জন্য আবেদন করেছি। আশা করি, কমিশন আমার আবেদন গ্রহণ করবে এবং ন্যায় বিচার পাব।





