নজর২৪ ডেস্ক- মুসা বিন শমসের একজন অন্তঃসারশূন্য ও রহস্যময় মানুষ। তিনি যে অঢেল সম্পদের মালিক দাবি করেন তা ভুয়া বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মঙ্গলবার ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় ডিবি উত্তরের যুগ্ম-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘মুসা বিন শমসের দাবি করেন সুইস ব্যাংকে তার ৮২ মিলিয়ন ডলার আছে। টাঙ্গাইলে ৩ লাখ একর জমি আছে। গাজীপুরে এক হাজার একর জমি আছে। কিন্তু আমাদের কাছে সবই ভুয়া মনে হয়। গুলশানে তার একটি বাড়ি আছে সেটিও তার স্ত্রীর নামে।’
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ধনকুবের মুসা বিন শমসের গোয়েন্দা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ও ছেলে জুবি মুসা। ধনকুবের মুসার সঙ্গে এবার ছিল না অস্ত্রধারী বডিগার্ড কিংবা দামী গাড়ি। প্রতারণা ও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার আব্দুল কাদেরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে তাকে ডিবি কার্যালয়ে তলব করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর কাদের পুলিশকে জানিয়েছিলেন তিনি মুসার আইন উপদেষ্টা এবং তাকে ২০ কোটি টাকার চেক দিয়েছিলেন মুসা। এছাড়াও মুসার বিভিন্ন সম্পত্তির কাস্টোডিয়ানের দায়িত্বও পালন করেন কাদের বলেছিলেন পুলিশকে। এসব বিষয়ের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যই কাদের এবং মুসা বিন শমসেরকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তিন ঘণ্টারও বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন মুসা। সাংবাদিকদের বলেন, আব্দুল কাদের তার নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে কাদেরের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিলেন তিনি। তবে কাদেরের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে জানান।
প্রিন্স মুসা বিন শমসের বলেন, আমি যা যা জানি, স্পস্টভাবে সবকিছু বলে দিয়েছি। তারা সন্তুষ্ট। সে (কাদের) একজন বড় ধরনের মিথ্যাবদী। জন্মগতভাবেই সে মিথ্যা বাদী। আমিও প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমিও ভিক্টিম হিসেবে আইনগত ব্যবস্থা নেব কাদেরের বিরুদ্ধে।
তবে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মুসা সম্পর্কে দিলেন বিস্ময়কর তথ্য। বললেন, উনাকে (মুসা) আমাদের রহস্যময় মানুষ মনে হয়েছে। আমরা তাকে বলেছি, সুইস ব্যাংকে আপনার ৮২ কোটি ডলার আছে, অথচ আপনার কাগজ থাকে কাদেরের অফিসে?
হারুন বলেন, এ প্রশ্নের জবাবে মুসা জানান, তার কলমের দাম ১০ কোটি টাকা, ঘড়ির দাম ৮ কোটি টাকা। সুইস ব্যাংক থেকে তিনি ৮২ কোটি ডলার পেলে পুলিশে ৫০০ কোটি টাকা দেবেন, দুদককে বিল্ডিং করে দেবেন, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করে দেবেন। উনি কী টাইপের মানুষ আমরা বুঝি না। তবে উনি দায় এড়াতে পারেন না। উনার সঙ্গে ভুয়া এডিশনাল সেক্রেটারি কাদেরের যে সম্পর্ক, এর দায় তিনি এড়াতে পারবেন না। কারণ উনার ছবি দেখিয়ে কাদের বিভিন্ন মানুষকে ঠকিয়েছেন।
মুসা জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কাদের নাকি তাকে বলেছেন, উনার (কাদেরের) সঙ্গে আইজিপিসহ বড় বড় মানুষের সম্পর্ক আছে। তাই তিনি কাদেরকে বিশ্বাস করেন। কিন্তু আইজিপিকে বা অন্য দফতরে ফোন করে এসব ক্রসচেক করা উচিত ছিল। কাদের মাঝির সঙ্গে উনার (মুসা) একটা যোগসূত্র রয়েছে।
‘দেহরক্ষী’ ছাড়া কেন?
এর আগে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে মুসা অনেক কথিত দেহরক্ষী নিয়ে গেলেও ডিবি কার্যালয়ে কেবল পরিবার নিয়ে আসার কারণ কী- এমন প্রশ্নও ছিল গণমাধ্যমকর্মীদের।
গোয়েন্দা যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমরা বলে দিয়েছিলাম, ডিবির ভেতরে কোনো বডিগার্ড নিয়ে আসা যাবে না।’
অবশ্য মুসার এই দেহরক্ষী নিয়েও নানা মুখরোচক আলোচনা আছে। একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, এরা কেউ তার দেহরক্ষী নয়। তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখার কর্মী। লোক দেখানোর জন্য তাদের দেহরক্ষী বানিয়ে উপস্থাপন করা হয়।





