Home রাজধানী সাভারে ইভ্যালির গোডাউন থেকে মালামাল উধাও!

সাভারে ইভ্যালির গোডাউন থেকে মালামাল উধাও!

0
86

নজর২৪ ডেস্ক- গ্রাহকের প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের মামলায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এখন ৩ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

 

ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যান গ্রেফতার থাকার এ সুযোগে প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তা ওয়্যারহাউজ থেকে মোবাইল ফোনসহ অনেক মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

জানা গেছে, সাভারের বলিয়ারপুরে ইভ্যালির ওয়্যারহাউজ থেকেই গ্রাহকের পণ্য সরবরাহ করতো প্রতিষ্ঠানটি। সেখানেই ইভ্যালির পণ্য মজুদ ছিল।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইভ্যালির ওয়্যারহাউজ থেকে ফোন সরিয়ে তা সাভারের বিভিন্ন ডিলারের কাছে বিক্রি করেছেন ওয়্যারহাউজের মানবসম্পদ বিভাগের প্যাকেজিং সেকশন ও স্টোর ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা মোজাম্মেল।

 

মোজাম্মেল বলেন, আমরা ওয়্যারহাউজ থেকে কিছু মোবাইল বাসায় নিয়ে আসি। বাসা থেকে মোবাইলগুলো ডেলিভারি করার কথা রয়েছে।

 

এদিকে ওয়্যারহাউজ থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার খবর পেয়ে আহাদ নামের এক গ্রাহক মোজাম্মেলের শ্বশুর বাড়ি হেমায়েতপুরের বাগবাড়িতে যান। তিনি সেখানে ৫০০-৬০০ মোবাইল ফোন দেখতে পান বলে জানিয়েছেন,

 

তিনি বলেন, আমি ইভ্যালিতে মোটরসাইকেল অর্ডার করেছিলাম। ওয়্যারহাউজ থেকে মালামাল সরানোর খবর পেয়ে আমি মোজাম্মেলের শ্বশুরবাড়ি যাই। সেখানে কার্টনভর্তি আইফোন, রিয়েলমি, অ্যাপলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রায় ৬০০ মোবাইলসেট দেখেছি।

 

তিনি আরও বলেন, বাইক কেনার জন্য আমি ইভ্যালিকে যে টাকা দিয়েছি মোজাম্মেল আমাকে সেই টাকার সমপরিমাণ ফোন দিতে চেয়েছিলেন। এজন্য সে আমাকে তার শ্যালক জাহাঙ্গীরের ফোন নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর সাভার স্ট্যান্ড, ওয়্যারহাউজসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা করতে চেয়ে আমার সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। এরপর তার সাথে দেখা হলে তিনি জানান, তিনি ইভ্যালির কেউ না। এই ফাঁকে সবগুলো মোবাইল বিক্রি করে সটকে পড়েন মোজাম্মেল।

 

মোজাম্মেলের স্ত্রী মোনালিসা মোমো বলেন, ওয়্যারহাউজ থেকে যে মোবাইলগুলো আনা হয়েছিল সেগুলো আবার ওয়্যারহাউজে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্রেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ইভ্যালির ওয়্যারহাউজ থেকে আমি মোট পাঁচশ মোবাইল ফোন কিনেছি।

 

তবে মোবাইলগুলো মোজাম্মেল তার কাছে হস্তান্তর করেছেন কি না এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেননি ওই ক্রেতা।

 

প্রসঙ্গত, গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরই মধ্যে সেলারদের রেগুলার বিল দিতে না পারায় ‘ইভ্যালি টি-টেন’ অফারের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here