Home আলোচিত ইভ্যালিতে বাইক অর্ডার, রাসেলের মুক্তি চাইলেন রিকশাচালক জলিল

ইভ্যালিতে বাইক অর্ডার, রাসেলের মুক্তি চাইলেন রিকশাচালক জলিল

0
214

নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর ধানমণ্ডিতে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন মোহাম্মদ জলিল। করোনার শুরুতেই তাঁর চাকরিটা চলে যায়। কয়েক জায়গায় চাকরির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। বাড়িতে ব্রেইন স্ট্রোক করা অসুস্থ বাবা। আছে দুটো সন্তানও। বাবার চিকিৎসা আর সংসারের খরচ চালাতে চার মাস আগে বাধ্য হয়ে রিকশা চালানো শুরু করেন।

 

নিজের পুরোনো একটা বাইক বিক্রি করে পাওয়া টাকা আর সঞ্চয় মিলিয়ে ইভ্যালিতে অর্ডার করিছলেন একটা নতুন ডিসকভার বাইক। স্বপ্ন ছিল সেই বাইক চালিয়ে ধুঁকতে থাকা সংসারটাকে একটু দাঁড় করাবেন জলিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ঝাপসা।

 

আজ বৃহস্পতিবার রাতে ইভ্যালি অফিসের সামনে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মোহাম্মদ রাসেলের মুক্তি চাইতে এসেছিলেন জলিল। বাইক অর্ডারের কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, গত মে মাসে ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত কিছুই পাননি।

 

টাকাগুলো ফিরে পাওয়ার আশাতেই ইভ্যালি সিইওর মুক্তি চান তিনি।

 

তিনি বলেন, ‘আমি ডিসকভারি বাইক অর্ডার দিয়েছিলাম চারমাস আগে। সেটা এখনো প্রসেজিংয়ে আছে। তারা সময় একটু বেশি নেয়। আমরা সেটা দিয়েছি, কারণ আমরা তো জিনিসটা বেশি দামে বা এক সাথে টাকা দিয়ে নেই না। তারা ৪-৫ মাস সময় নিছে, আমরা দিছি। তার ওপর আমার আস্থা আছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আস্থা আছে বলেই আমরা সময় দিছি। তবে এখন যে কাণ্ড হইছে এটা আমাদের কারোই কাম্য ছিল না। তবে এরকম অন্যান্য ঘটনায় যে গ্রেপ্তার হইছে, সেটাতে তো কোনো সমাধান হয় নাই। ফলে আমরা তার মুক্তি চাই, এটাই কথা।’

 

ওই রিকশা চালক আরও বলেন, ‘কোম্পানি বেঁচে থাকলে, মানুষ বেঁচে থাকলে সবাই টাকা পাবে। আমি আশা করি সবাই পাবে। বাইকটা পাই নাই বলে আমি এখন রিকশা চালাচ্ছি। পেট চালাতে হবে তো। বাইকটা পেলে হয়তো রাইড শেয়ারিং করে খেতে পারব।’

 

জড়ো হওয়া গ্রাহকরা সাংবাদিকদের বলতে থাকেন, ‘রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হলে গ্রাহকরা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্ণধারদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কেউই তাদের অর্থ ফেরত পাননি।’

 

একজন গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির রাসেলকে যথাযথ নজরদারির মধ্যে রেখে আরও কিছুদিন সময় দেওয়া উচিত। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে তাকে গ্রাহকদের টাকা ফেরত বা পণ্য দিতে বাধ্য করা যেতে পারে। তাকে ধরে নিয়ে গেলে গ্রাহকরা পণ্য বা টাকা কিছুই পাবেন না।’

 

অপর একজন সেলার বলেন, ‘রাসেল ভাইয়ের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে। আমরা চাই ইভ্যালির এমডিকে গ্রেপ্তার না করে ছেড়ে দেওয়া হোক। তিনি ছয় মাস সময় চেয়েছিলেন আমাদের কাছে, আমরা তাকে সময় দিয়েছিলাম। ছয় মাসের মাত্র এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। বাকি আরও পাঁচ মাস আছে।

 

এক গ্রাহক বলেন, ‘ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডি তো বিদেশে পালিয়ে যাননি। যদি পালিয়ে যেতেন, তাহলে প্রশাসন ইভ্যালির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতো। কিন্তু রাসেল ভাই দেশেই ছিলেন এবং আজকেও তিনি কিছু পণ্য গ্রাহকদের ডেলিভারি দিয়েছেন। তাকে গ্রেফতার না করে মুক্ত করে দিক।’

 

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমার মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন র‌্যাব।

 

তার আগে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং সিইও মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here