নজর২৪, ঢাকা- পোশাক কারখানার যে সব শ্রমিক ঈদের আগে গ্রামে গেছেন, তাদের গ্রামেই অবস্থান করতে বলেছে পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। লকডাউন পুরোপুরি শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা কাজে যোগ না দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
মহামারি নিয়ন্ত্রণের লকডাউনের মধ্যে কারখানা খুলে দেওয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে বড় বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হচ্ছে পোশাককর্মীদের। সারাদিনই দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে এই দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে। রাতেও দলবেঁধে পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে ফিরেছেন শ্রমিকরা।
ঢাকায় ফেরা অনেক শ্রমিকরা বলছেন, গতকাল রাতে কারখানার সুপারভাইজাররা ফোনে কর্মস্থলে আসতে বলেছেন। আগামী ১ আগস্টের মধ্যে কর্মস্থলে না আসতে পারলে অনেকেই চাকরি হারাবেন এই শঙ্কায় ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কয়েক গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে গাদাগাদি করে ঢাকায় ফিরছেন।
তবে শ্রমিকদের কারখানায় আসার জন্য বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কোনও মালিক বাধ্য করছে না বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান।
তিনি বলেন, কারখানা চালু করতে সব শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। আপাতত, ঈদের যারা ছুটিতে বাড়িতে যায়নি ও যারা স্থানীয় শ্রমিক তাদের দিয়ে কারখানা চালু করা হচ্ছে। তবে শ্রমিকরা হয়ত নিজ থেকে আসা শুরু করেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, রফতানিমুখী শিল্পকারখানার কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে আগামীকাল রবিববার সকল গণপরিবহন চলাচল শিথিল করেছে সরকার। যেসব শ্রমিক আগামীকাল রবিবার বাড়ি থেকে আসতে চান, তাদের জন্য গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দূরপাল্লার বাসে শ্রমিকরা আসতে চাইলে, সেই বাস পুলিশ ধরবে না। এছাড়া লঞ্চসহ শ্রমিকদের জন্য নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের অধিকাংশ বড় বড় কারখানা ঢাকার বাইরে। আশুলিয়া, সাভার, মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জের কারখানার শ্রমিকদের ঢাকায় আসার দরকার পড়ছে না। তিনি বলেন, স্থানীয় বসবাসকারী শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা চালু হচ্ছে। এছাড়া যারা ঈদে বাড়ি যায়নি তাদের ডিউটি দেওয়া হচ্ছে। কাজেই যারা ঈদে বাড়ি গেছেন, তারা লকডাউন শিথিল হলে কাজে যোগ দিবেন। তাদের কারও চাকরি যাবে না। তিনি আরও বলেন, কোনও মালিক বা কোনও কারখানার পক্ষ থেকে শ্রমিকদের আসার জন্য বাধ্য করা হয়েছে একথা সত্য নয়।





