Home দেশের খবর শাহজাদপুরে মায়ের উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস নিয়ে শিশুর আত্মহত্যা !

শাহজাদপুরে মায়ের উপর অভিমান করে গলায় ফাঁস নিয়ে শিশুর আত্মহত্যা !

0
72

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মায়ের উপর অভিমান করে সোহাগ হোসেন (১২) নামের এক স্কুলছাত্র গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

 

সোহাগ হোসেন শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মো রেজাউল সরদারের ছেলে ও জামিরতা হাইস্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র। সোহাগের পিতা রেজাউল সরদার ঢাকায় ভ্রাম্যমাণ লেবু বিক্রি করেন।

 

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, রবিবার (২৭ জুন) সকালে সোহাগের স্কুল পরিক্ষার জন্য তার মা সেলিনা খাতুন সোহাগের জন্য কবুতরের মাংস রান্না করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই সময় সোহাগকে বাজারে গিয়ে সবজি কিনে আনতে বলেন।

 

সোহাগ বাজারে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তার মা গালি দেয়, তখন সোহাগ ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পরে সোহাগের মা তাকে ডাকাডাকি করেও কোন সারা শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশী তার ভাগিনা সাকিবকে ডেকে আনে।

 

সাকিব জানালা দিয়ে উকি দিয়ে ঘরের তীরের সাথে গলায় রশি পেচানো সোহাগের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়, দ্রুত দরজা ভেঙে সোহাগের দেহ পারিবারে লোকজন মেঝেতে নামায়। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি সোহাগকে মৃত ঘোষনা করেন।

 

খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিছুর রহমান ও উপ-পরিদর্শক রবিউল করিম সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃত সোহাগের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন।

 

শাহজাদপুর থানার উপ-পরিদর্শক আনিছুর রহমান জানান, সূরতহালে সোহাগের মৃত্যু অস্বাভাবিক মনে হয়নি এবং পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ তাদের জিম্মায় রেখে আসা হয়েছে।

 

সোহাগের মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, ৩ দিন পূর্বেও একই গ্রামের আরেকটি শিশুর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

 

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন একই গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র সজীব (৮) গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।

 

এছাড়াও গত ২৬ জুন শনিবার উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের বাচড়া গ্রামের মৃত হোসেন মোল্লার ছেলে আব্দুল মতিন মোল্লা (৫৬) ও পোতাজিয়া ইউনিয়নের রেশমবাড়ি গ্রামের ইমান আলী মোল্লার ছেলে সুজন মোল্লা (২৫) ঘরের তীরের সাথে গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here