Home দেশের খবর খুলনা কিনছে না কেউ, বাগানেই পচে নষ্ট হচ্ছে শত শত মণ আম

কিনছে না কেউ, বাগানেই পচে নষ্ট হচ্ছে শত শত মণ আম

0
82

নজর২৪, ঝিনাইদহ- ঝিনাইদহে চলমান লকডাউনের কারণে আম বিক্রি করতে পারছেন না চাষিরা। বাগানেই পচে নষ্ট হচ্ছে শত শত মণ আম। ফলে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আম চাষ করা চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বর্তমানে আমের যে বাজার তাতে উৎপাদন খরচই উঠছে না।

 

সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ বিভিন্ন প্রজাতির আম বাগান। গাছে গাছে ঝুলে আছে কাঁচা-পাকা আম। লকডাউনের কারণে চাষিরা এই আম বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না।

 

জানা গেছে, আগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে আমের ব্যাপারীরা আসতো এই আম ক্রয় করতে। প্রতিদিন ছোটবড় ১০-১৫টি করে ট্রাক লোড হতো এখান থেকেই। কিন্তু এবার লকডাউনের কারণে দূর-দূরান্ত থেকে কোনো আমের ব্যাপারী বা কোনো আড়ৎ মালিক আসছেন না আম কিনতে। চারদিকে আম চাষিদের হাহাকার। গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এবারও তারা আম চাষ করেছেন। কিন্তু এ বছরও বাগানেই পচে নষ্ট হচ্ছে আম।

 

সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের কাশিমনগর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম সন্টু ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ১৩ বিঘা জমিতে আম্রপালি ও বারি-৪ জাতের আম চাষ করেছিলেন। ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিওতে তার দেনা ৫ লাখ টাকা। কিন্তু তিনি এখন বাজারে ব্যাপারীদের কাছে ভালো দামে আম বিক্রি করতে পারছেন না।

 

একদিকে আম বিক্রি করতে পারছেন না অন্যদিকে ভালো দাম না পাওয়ায় গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে আম। এখন তিনি কীভাবে এই ঋণের বোঝা শোধ করবেন- এই ভেবেই তিনি আম বাগানেই বেহুঁশ হয়ে যান।

 

আম চাষি মো. রফিকুল ইসলাম সন্টু জানান, তিনি গত বছরও ১৩ বিঘা জমিতে আম চাষ করেছিলেন। তখন ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে সব আম নষ্ট হয়ে যায়। এ বছরও তিনি একই জমিতে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আম চাষ করেছেন। তার বাগানে আমের ফলন ভালো হয়েছে। প্রায় ৪৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করা যেত তার বাগান থেকে।

 

কিন্তু কঠোর লকডাউনের কারণে বাজারে আম বিক্রি কমে গেছে। সেই সঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে আম কিনতে যে ব্যাপারীরা আসতেন তারা এখন আসছেন না। ফলে গাছের সব আম পেকে বাগানেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন তিনি ব্যাংক ও এনজিওর ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন কীভাবে এই ভেবেই দিন কাটাচ্ছেন। আমের ব্যাপক ক্ষতি দেখে শনিবার (২৬ জুন) দুপুরে বাগানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

 

কোটচাঁদপুরের আড়তদার মোমিনুর রহমান বলেন, বর্তমানে আমের বাজার খুবই ডাউন। করোনার কারণে আম বাজারজাত ও পরিবহন করা যাচ্ছে না। শনিবার পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো আম বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকা মণ। আর বেশির ভাগ আম ৪০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে। এই দামে আম বিক্রি করে চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

 

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, আমাদের জেলায় কঠোর লকডাউন চললেও কৃষিপণ্য বিক্রির ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তারা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাঁচাবাজার বা বিভিন্ন জায়গায় আম বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়াও কৃষকরা যদি ঢাকা কিংবা দেশের বিভিন্ন জেলায় আম নিয়ে বিক্রি করতে চান তাহলে আমরা সেই ব্যবস্থাও করে দেব।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here