Home ফিচার বাড়ি ফেরা ঠেকাতে কোরবানি ঈদেও কঠোর লকডাউন

বাড়ি ফেরা ঠেকাতে কোরবানি ঈদেও কঠোর লকডাউন

0
106

নজর২৪ ডেস্ক- দেশে করোনা ভাইরাসের আরেকটি ঢেউ আঘাত হানার আশংকা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এক মাস আগে শনাক্তের হার সাত শতাংশে নেমে আসলেও এখন সেটি দ্বিগুণ হয়ে ১৬ শতাংশ হয়েছে।

 

সীমান্তের জেলাগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও সংক্রমণের হার বাড়ছে। ফলে জনবহুল ঢাকা শহরে করোনা ভাইরাসের আরেকটি বড় ধরণের ঢেউয়ের আশংকা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

এদিকে সংক্রমণ বাড়তির দিকে থাকায় রোজার ঈদের মতো কোরবানি ঈদেও সরকারের নানা বিধিনিষেধ আরোপ থাকবে। ঈদে বাড়ি যাওয়া নিয়ে আগেভাগেই নিরুৎসাহিত করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কুরবানির পশুর হাটের সংখ্যাও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভার্চুয়াল স্বাস্থ্য বুলেটিনে রোববার এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম।

 

গত বছর কুরবানি ঈদের পশুর হাট ও ঈদে ঘরমুখী মানুষের কারণে করোনা সংক্রমণ বেড়েছিল। এ বিষয়ে এবার করণীয় কী?

 

এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখী মানুষের ঢেউ ঠেকাতে আমরা গতবছরও পরিকল্পনা দিয়েছিলাম। এবারও আমার ঘরমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করছি। নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে ঈদ উযাপন করতে পরামর্শ দেয় হয়েছে।

 

‘এ ছাড়া এবার পশুর হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনার কথা বলছি। পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে নিশ্চিত করা যায় এ বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হবে। সেই বিষয়ে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। এবারও দিয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি যদি নিশ্চিত করেন সংক্রমণের ঊধ্র্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

 

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পশুর হাটগুলোতে করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে হাটে যাওয়ার ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমার প্রস্তাবটি বিবেচনা রাখব। এ বিষয়ে আলোাচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

 

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ রোধে সরকার প্রথমে ৫ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞা দফায় দফায় বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

 

গত ঈদুল ফিতরেও ঈদ যাত্রায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সরকার। বাসসহ যাত্রীবাহী গণপরিববন বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেনি ঘরমূখী মানুষ। যে যার মতো করে বাড়ি ফেরে। লঞ্চঘাটগুলোতে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়।

 

ঈদ যাত্রার জের পড়েছে করোনা সংক্রমণেও। ঈদের আগে দেশে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে।

 

করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে চলমান বিধিনিষেধ কুরবানির ঈদের পরও অব্যাহত রাখা হবে বলে আগেই জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন।

 

গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ঈদের পরে ২০-২২ তারিখের দিকে সংক্রমণ আবার বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিক থেকে আমাদের পরিকল্পনা আছে ঈদের পরে আরও এক সপ্তাহ বিধিনিষেধ চলমান রাখা। আর এর মধ্যে শতভাগ মাস্ক যেন আমরা পরাতে পারি সে ব্যবস্থা করা। আশা করি ১৬ তারিখের মধ্যে প্রজ্ঞাপন দিয়ে এগুলো জানাতে পারব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here