Home ফিচার হজ নিয়ে অনিয়ম করলে বিচারের বিধান রেখে সংসদে বিল পাস

হজ নিয়ে অনিয়ম করলে বিচারের বিধান রেখে সংসদে বিল পাস

0
115

নজর২৪, ঢাকা- অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা মোকাবিলায় আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘হজ ও ওমরাহ পরিচালনা বিল-২০২১’।

 

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান উত্থাপন করলে কণ্ঠ ভোটে বিলটি পাশ হয়। এর আগে বিলের ওপর জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

 

দেখা যায়, সরকার কোনও অনিয়মের কারণে হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে এজেন্সিগুলো। এ কারণেই হজ পরিচালনার জন্য একটি আইনি কাঠামোর প্রয়োজন ছিল।

 

বিলে বলা হয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার এ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি গঠন করবে। হজ ও ওমরাহ এজেন্সিকে শর্ত মেনে নিবন্ধন নিতে হবে। কোনো এজেন্সি পরপর দুইবার তিরস্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার নিবন্ধন দুই বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যাবে।

 

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, হজের চুক্তি এখানে হওয়ার পরে কেউ সৌদিতে গিয়ে ঠকালে তবে ওই অপরাধ বাংলাদেশে হয়েছে বলে গণ্য করে এই আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে। নিবন্ধন পেতে হলে হজ এজেন্সিকে তিন বছর এবং ওমরাহ এজেন্সিকে দুই বছরের ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

 

বিলে আরও বলা হয়েছে, হজ এজেন্সিগুলো অনিয়ম করলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। আর ওমরা এজেন্সি অনিয়ম করলে তারা নিবন্ধন হারানোর সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়বে। এছাড়া জামানত বাজেয়াপ্ত, নিবন্ধন স্থগিত, সতর্কীকরণ ও তিরস্কারের শাস্তি রয়েছে।

 

কোনো এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল হলে সেই এজেন্সির অংশীদার বা স্বত্বাধিকারীরা পরে কখনও হজ বা ওমরা এজেন্সির নিবন্ধন পাবেন না। এমনকি অন্য কোনো এজেন্সির কাজেও সম্পৃক্ত হতে পারবেন না তারা।

 

হজ এজেন্সিগুলো সত্ত্ব পরিবর্তন করতে চাইলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে বলে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে।

 

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে হজ ও ওমরা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কোনো সংবিধিবদ্ধ আইন নেই। নির্বাহী আদেশ, নীতিমালা, পরিপত্র ইত্যাদি দ্বারা এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংবিধিবদ্ধ আইন ও বিধি-বিধানের প্রয়োজন দীর্ঘদিন যাবত অনুভূত হচ্ছে।’

 

হজ ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়, বিভাগ, ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার দায়-দায়িত্ব আইনি বিধি-বিধান দ্বারা সুস্পষ্ট করা হলে তা হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে বলেও মতপ্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here