Home আলোচিত মুনিয়ার গলায় শুধুই ফাঁসের দাগ, ফ্ল্যাট থেকে ৬ ডায়েরি উদ্ধার

মুনিয়ার গলায় শুধুই ফাঁসের দাগ, ফ্ল্যাট থেকে ৬ ডায়েরি উদ্ধার

0
116

নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার মোসারাত জাহান (মুনিয়া) নামে ওই তরুণীর মরদেহে কেবল গলায় ফাঁসের দাগ ছাড়া আর কোথায় আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ।

 

গুলশান থানার উপপরিদর্শক শামীম হোসেন, এএসআই আব্দুল রশিদ, গোলাম মোস্তফা, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ নুসরাত জাহান ও ফারহানা সুলতানার সহায়তায় মেয়েটির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়।

 

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, জিহ্বা মুখ থেকে বাইরে ছিল। গলার বাম পাশে অর্ধচন্দ্রাকৃতি গভীর কালো দাগ দেখা যায়। হাত দুটি শরীরের সঙ্গে লম্বালম্বি অর্ধমুষ্টি ছিল।

 

সোমবার সন্ধ্যার দিকে গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কের ফ্ল্যাট থেকে ওই তরুণীর ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তার বোনের মামলায় তোলপাড় পড়ে যায়।

 

মামলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে করা হয় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা।

 

মেয়েটির দুলাভাই গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৯ সালের শেষের দিকে আনভীরের সঙ্গে ফেসবুকে তার শ্যালিকার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়।

 

তবে ২০২০ সালের মার্চে মেয়েটি কুমিল্লায় চলে যায়। আর গত বছরের জুন-জুলাইয়ে পরীক্ষা থাকায় তাকে আবার ঢাকায় পাঠানো হয়। এরপর আবার আনভীরের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। আর তারা বাসা ভাড়া নেন।

 

পুলিশের গুলশান জোনের উপকমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, ২৩ এপ্রিল একটি ইফতার পার্টি হয় ওই বাসায়। সে পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড করা হলে মেয়েটির সঙ্গে ওই এমডির মনোমালিন্য হয়। পরে মেয়েটি তার বোনকে ফোন করে জানান, যে কোনো মুহূর্তে তার যে কোনো ঘটনা ঘটতে পারে।

 

এই ফোনের পর কুমিল্লা থেকে সোমবার বিকেলে ঢাকায় আসেন ওই তরুণীর বোন। তবে গুলশানের ফ্ল্যাটটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান তিনি।

 

গুরুত্ব বিবেচেনায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলার তদন্ত করছেন জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে।

 

এদিকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে ছয়টি ডায়েরি ও দুটি মোবাইল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ডায়েরিতে কী লেখা আছে তা যাচাই করছে পুলিশ। মামলার আলামত হিসেবে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

 

ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে তার মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের আলামতের সঙ্গে ৬টি ডায়েরি পাওয়া যায়। এসব ডায়েরিতে কী লেখা আছে তা যাচাই করা হচ্ছে।

 

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি সুদীপ বলেন, চুক্তিপত্র অনুযায়ী ওই ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া এক লাখ টাকা। অগ্রিম দেয়া হয়েছে দুই লাখ টাকা। এরই মধ্যে দুই মাসের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here