Home দেশের খবর মৃত্যুর আগে পরিবারের দেখা পেলোনা বৃদ্ধ গোলজার, এলো জানাযার পর

মৃত্যুর আগে পরিবারের দেখা পেলোনা বৃদ্ধ গোলজার, এলো জানাযার পর

0
86

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের দরগাহপাড়ায় মখদুমিয়া জামে মসজিদের সামনে বটতলায় পড়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন বৃদ্ধ গোলজার (৭০)।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ ২০ বছরেরও অধিক সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন গোলজার মিয়া এক সময় শাহজাদপুরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সময়ের পরিক্রমায় ও বয়সের ভারে একসময় নিজের কাছেই নিজেকে বোঝা মনে হতে থাকে।

 

অসুস্থতা ও জীর্ণ শারীর নিয়ে বেশ কয়েক বছর যাবত মসজিদের দর্শনার্থীদের কাছ থেকে সহযোগীতা নিয়ে পেট চলতো। এভাবেই চলতে থাকে বেশ কয়েক বছর। কিছুদিন পূর্বে গোলজার মিয়ার অসুস্থতা বেশি হলে চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি।

 

বুধবার রাতে গোলজার মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায় পাবনা জেলার জালালপুর তার বাড়ি, তিনি বাড়িতে ফিরতে চান কিনা জিজ্ঞাসা করলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তিনি জানান, তার দুইটি ছেলে আছে একজনের নাম মনিরুল ও আরেকজনের নাম আমিরুল।

 

এই সংক্ষিপ্ত তথ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট দেন সাংবাদিক রাজিব আহমেদ। মুহুর্তেই পোষ্টটি ভাইরাল হয়ে যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলতে থাকে তার পরিবারের খোঁজ।

 

এরই মাঝে ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় অসুস্থ গোলজার মিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে ৩ ঘন্টার মধ্যেই গোলজার মিয়ার বড় ছেলে যোগাযোগ করেন সাংবাদিক রাজিবের সাথে। তারা দ্রুত রওনা হয় জন্মদাতা পিতাকে শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য।

 

জানাযা শুরু হয় জোহরের নামাজের পর, জানাযা শেষে সন্তানদের জন্য গোলজার মিয়ার লাশ রেখে দেওয়া হয় মসজিদ প্রাঙ্গনেই। বেলা তিনটায় উপস্থিত হন গোলজার মিয়ার ছেলে আমিরুল ও মনিরুল, তাদের সাথে এসেছিল গোলজার মিয়ার বংশের দুই প্রদীপ দুই নাতি।

 

পরে খাটিয়াতে রাখা গোলজার মিয়ার মুখ দেখেই দুই ছেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কান্নারত অবস্থায়ই গোলজার মিয়ার দেহ দেখিয়ে তার ছেলেরা নাতিদের উদ্দেশ্যে বলেন যে এই হলো তোমাদের দাদা।

 

গোরজার মিয়ার ছেলে আমিরুলকে জিজ্ঞাসা করা হয় কেন আপনাদের পিতা বাড়ি থেকে চলে এসেছিল ? কেন এতোদিন আপনারা তার খোঁজ নেনেনি ? কেন তার শেষ শয্যা পাশে আপনারা তাকে সেবা ও চিকিৎসা করালেন না ? একটি কথারও তারা উত্তর দেননি অথবা তাদের কাছে কোন সদুত্তর ছিলনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here