বিনোদন ডেস্ক- পৌরসভা নির্বাচনে আটঘাট বেঁধে নৌকা প্রতীকের প্রচারণায় নেমেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা মীর সাব্বির। এতে চটেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এক সময় ছাত্রদল মনোনীত প্রার্থী হয়ে বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদে বিপুল ব্যবধানে নাট্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত এই জনপ্রিয় তারকা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর প্রচারণায় নামায় বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন ফেসবুকে।
সেসব পোস্টে তার রাজনৈতিক নীতি-নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৯০ শতাংশ লোক জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করা বরগুনার ঐতিহ্যবাহী মীর পরিবারের সন্তান হিসেবে মীর সাব্বির নৌকার প্রচারণা করছেন দেখে অনেকে অবাক ও বিস্মিত হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন হাসান শাহীন সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘তুমিও নিজেকে ধরে রাখতে পারলে না সাব্বির? কৈশোর আর যৌবনের শুরুতে তুমি ছিলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আলোকিত মুখ। আমাদের হাতধরেই ছাত্র রাজনীতির দুর্গমপথে তোমার অভিযাত্রা ছিল অপ্রতিরোধ্য! ছাত্রদল মনোনীত বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্রসংসদের ‘নাট্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক’ পদে তুমি নির্বাচিত হয়েছিলে বিপুল ভোটে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এই তো সেদিনও আমার সাথে তুমি ছিলে মিছিল মিটিংয়ের অগ্রভাগে! শিল্পী হিসেবে জীবন শুরু হওয়ায় রাজনীতি থেকে বিদায় নিলে এবং এটাই স্বাভাবিক ছিল। কারণ একজন শিল্পীর কোনো দল নেই, জাত নেই। আমরা এমন সাব্বিরকেই দেখতে চেয়েছিলাম! কিন্ত দুর্ভাগ্য সেই জায়গা থেকে আমরা তোমায় হারিয়ে ফেললাম আজ! তবুও স্নেহ ভালোবাসা সবসময়।’
ফেসবুকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাজিবুল ইসলাম সোহেল লিখেছেন, ‘মীর সাব্বির সাবেক ছাত্রদল নেতা। বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে ‘নাট্য ও সাংস্কৃতিক’ বিষয়ক সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী মীর পরিবারের ৯০% লোক জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করে। তিনি যেভাবে গতকাল থেকে বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন ও জনসভা করছেন তাতে শুধু অবাক না বিস্মিত হয়েছি। অভিনেতা সে শুধু অভিনেতাই।’
বিস্ময় প্রকাশ করে জেলা যুবদলের দফতর সম্পাদক হুমায়ূন কবীর লিখেছেন, ‘আমি হতবাক ও বিস্মিত। একজন মীর সাব্বির। সাবেক ছাত্রদল নেতা। বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে ‘নাট্য ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী মীর পরিবারের ৯০ শতাংশ লোক জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করে। তিনি যেভাবে গতকাল (রবিবার) থেকে বরগুনা পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন ও জনসভা করছেন তাতে শুধু অবাক না বিস্মিত হয়েছি। অভিনেতা সে শুধু অভিনেতাই। আজ আবার প্রমাণ করলেন।’
এদিকে নন্দিত অভিনেতা ও পরিচালক মীর সাব্বির এসব অভিযোগ আমলে না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তারা আমার ছাত্রদলের হয়ে নির্বাচনের ব্যাপারে যা বলছে তা সত্য। নির্বাচন আমি করেছিলাম। তবে এখানে অনেক রঙ মেশানো কথাও আছে, যা আমাকে ছোট করতেই বলা হচ্ছে। যারা অভিযোগ করছেন তারা খুব ভালো করেই জানেন, আমি কখনো কোনো দিন মন থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। পরিস্থিতি ও স্থানীয় রাজনীতির শিকার ছিলাম।’
আমি কৈশোর থেকেই থিয়েটার, গান-সংস্কৃতির সঙ্গে জড়ি। অভিনয় করতাম, গান করতাম। খেলাঘরসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সে সুবাদে এলাকা ও কলেজে আলাদা জনপ্রিয়তা ছিল আমার। সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে কলেজের ছাত্রদল আমাকে ব্যবহার করেছিল।
দেখবেন, কলেজে এগুলো হরহামেশাই হয়। কোনো ছাত্র জনপ্রিয় হলে তার সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন রাজতৈনিক সংগঠন তাকে দলে টানার চেষ্টা করে। আমার বিষয়টিও তাই। আমাকে যারা ছোট থেকেই চেনেন তারাও বিষয়টি জানেন। আমি নিজে যখন জীবনবোধ, মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধকে উপলব্ধি করতে শিখেছি তখন থেকেই আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করেছি। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছি।
সেই তাগিদ থেকেই গত জাতীয় নির্বাচনে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের হয়ে প্রচারণা চালিয়েছি। তখন কিন্তু কেউ কোনো সমালোচনা করেনি। এখন স্থানীয়ভাবে যখন বরগুনার একজন নৌকার প্রার্থীর জন্য ভোট চাইছি তখন কেন সবাই অপপ্রচার চালাচ্ছেন তা সহজেই বোধগম্য। তারা আসলে নিজেদের পরাজয় দেখতে পারছেন। কিন্তু সেটা মেনে নিতে পারছেন না। এজন্যই পুরোনো ছেলেমানুষি ঘটনাকে টেনে আলোচনায় আনতে চাইছেন।





