Home ফিচার গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে হাজী সেলিমের একের পর এক অবৈধ স্থাপনা

গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে হাজী সেলিমের একের পর এক অবৈধ স্থাপনা

0
165

নজর২৪, ঢাকা- বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে চলমান বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে এবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কেরাণীগঞ্জের মধ্যেরচর এলাকায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের আরেকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অবৈধ স্থাপনা।

 

রোববার এই উচ্ছেদের মাধ্যমে হাজী সেলিমের দখলে থাকা বুড়িগঙ্গার বেশ কিছু জায়গা দখলমুক্ত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

 

বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখলমুক্ত ও পুনঃদখল রোধে বিআইডব্লিউটিএ’র এই বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান কয়েকদিন বিরতির পর রোববার আবারও শুরু হয়। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব জামিল ও ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলীর নেতৃত্বে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ উপজেলার মধ্যেরচর ও ঝাউচর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী তীরে উচ্ছেদ অভিযান চলে।

 

এ সময় বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখল করে গড়ে তোলা ক্ষমতাসীন দলের এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের অবৈধ স্থাপনাসহ ৩৬টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং এক একর তীরভূমি উদ্ধার করা হয়।

 

সাটানো সাইনবোর্ড অনুযায়ী ক্রয়সূত্রে এই জমির মালিক ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম। তবে সরকারের নথিতে এই জমি নদীর। সে জায়গা উদ্ধারে অভিযান বিআইডব্লিউটিএ’র।

 

এক তো নদীর জায়গা, অপরদিকে নদীর তীরভূমিতে কোনো স্থাপনা গড়তে হলে অনুমোদন নিতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। মজবুত কাঠামোর এই স্থাপনা গড়তে নেয়া হয়নি তা।

 

গেল বছর ঢাকা চারপাশে নদী উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর এই এলাকায় স্থায়ী সীমানা পিলার বসায় সরকার। পিলারের মধ্যে থাকা স্থাপনা উচ্ছেদে চালানো হচ্ছে এই যাত্রার অভিযান। যদিও এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কেউ কেউ।

 

উল্লেখ্য, গত ২২ ও ২৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের নির্বাচনী এলাকার ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গার তীরভূমি থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এরপর গত ৬ ও ৭ ডিসেম্বর আরেক দফা অভিযান চলে।

 

এর মধ্যে ৭ ডিসেম্বরের অভিযানকালে পুরনো ঢাকার লালবাগের কামালবাগ এলাকায় বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের স্কুলের জন্য বরাদ্দ করা জমিতে হাজী সেলিমের গড়ে তোলা মদিনা ফিলিং স্টেশনের একাংশ এবং গুদামঘর উচ্ছেদ করা হয়।

 

এছাড়াও অভিযানকালে হাজী সেলিমের মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে গড়ে তোলা আরও কিছু অবৈধ স্থাপনাও ভাঙা পড়ে।

 

রোববারসহ পাঁচদিনের বিশেষ অভিযানকালে মোট ৫২৭টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে প্রায় সাড়ে ছয় একর তীরভূমি উদ্ধার করা হয়। এসব অবৈধ দখলদারের বেশিরভাগ হাজী সেলিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here