ঢাকা: কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, ফল পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
ইসি মো. আলমগীল বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে চারটি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার সময় কারচুপি করার রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনো সুযোগ নেই। কেননা, প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোট গণনার পর তা ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা। আর সেই রেজাল্ট শিটে প্রার্থীর এজেন্টদের স্বাক্ষর থাকে।
বুধবার (১৫ জুন) অনুষ্ঠিত কুসিক নির্বাচনে মাত্র ৩৪৩ ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের কাছে হেরে যান দুইবারের মেয়র ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মো. মনিরুল হক সাক্কু।
ভোটের ফলাফল প্রত্যাখান করে সাক্কু অভিযোগ করেন, ১০১টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা কালক্ষেপণ করেন। পরে ফল পাল্টে দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফল পাল্টে দিয়েছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন তো সরাসরি নির্বাচন পরিচালনা করে না। নির্বাচন পরিচালনা করে রিটার্নিং অফিসার। কেন্দ্র ঠিক করেন, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন ইত্যাদি। আসলে নির্বাচন (ভোটগ্রহণ) করেন প্রিজাইডিং অফিসার। তারা ফল প্রকাশ করে কেন্দ্রে ঘোষণা দেন। সেখানে বাইরে টানিয়ে দেন। সেখানে প্রার্থীর এজেন্টদের স্বাক্ষর থাকে। তাদের উপস্থিতিতেই কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রিজাইডিং অফিসার। একটা কপি তাদের দেন। একটা মালপত্রসহ পাঠান রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে। আরেকটা কপি রিটার্নিং অফিসারের কাছে থাকে। রিটার্নিং কর্মকর্তা শুধু একীভূত করেন। উনার কাজ হলো কেবল পড়ে শোনানো। তাহলে ওনি কিভাবে পরিবর্তন করবেন। পরিবর্ধন করবেন, পরিমার্জন করবেন, সে সুযোগ আছে?
সাবেক এই ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং অফিসার কেবল বেসরকারি ফলাফলে যোগ-বিয়োগ ঠিক আছে কিনা, সকলের স্বাক্ষর আছে কি-না, ইভিএমরে সঙ্গে মিল আছে কি-না। এরপর সে আমাদের কাছে পাঠায়। আমরা গেজেট প্রকাশের আগে দেখি, সেখানে ভুল থাকলে আমরা আবার ফেরত পাঠাই। তাই রিটার্নিং অফিসারের কাছে রেজাল্ট ম্যানিপুলেট করার সুযোগ নেই। কারণ প্রার্থীর এজেন্টদের কাছে কপি আছে। এরপরও কারো সন্দেহ থাকলে ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবেন।





