নজর২৪, ঢাকা- করোনাভাইরাসের টিকা না নিলে রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে সোমবার (০৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা টিকা নিয়েছেন, তারা স্বাভাবিকভাবে মাস্ক পরে রেস্টুরেন্টে যেতে পারবেন। যারা টিকা নেননি, তারা পারবেন না। খেতে গেলে টিকার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। না হলে সেই রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন বিধিনিষেধের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান তিনি।
সভায় সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান সীমিত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্তদের পুলিশ পাহারায় কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গণপরিবহনে আসন সংখ্যার চেয়ে কমিয়ে যাত্রী পরিবহনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ‘সভায় অনেক আলোচনা হয়েছে। ওমিক্রনের বিষয় নিয়ে, সার্বিক প্রস্তুতির বিষয় নিয়ে। সিদ্ধান্তগুলো এখনই বলে দেওয়া যাবে না। সিদ্ধান্তগুলো ক্যাবিনেট থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের যখন আলোচনায় যেতে বলা হলো আমরা বলেছি, হাসপাতালগুলো প্রস্তুত। অক্সিজেন আছে এখন। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ১২০টি স্থাপন করা আছে। আমাদের টিকা কার্যক্রম চলমান। এখন ডাক্তাররা প্রশিক্ষিত, জানেন কীভাবে করোনা চিকিৎসা করতে হয়। তারা অনেক অভিজ্ঞ দেশবাসীও এ বিষয়টি জানে।’
তিনি বলেন, কিন্তু আশংকার বিষয় হলো করোনা বেড়ে যাচ্ছে। আজকের কথাই যদি বলি, আজ সংক্রমণ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে, যেটা একের নিচে নেমে গিয়েছিল, এটা আশংকাজনক। মৃত্যুহার যদিও এখন কম। কিন্তু সংক্রমণ বাড়তে থাকলে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই।
তিনি বলেন, লকডাউনের পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। আমরা সুপারিশও করিনি। লকডাউনের পর্যায় পর্যন্ত যাতে না যেতে হয়, সেজন্যই এ বৈঠক। যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার, সেগুলো নিই। এরপর দেখা যাক কী দাঁড়ায়।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. লোকমান হোসেন মিয়া, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন, তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহেনুর মিয়া।
