অবশেষে দেশ ছাড়লেন ডা. মুরাদ

নজর২৪, ঢাকা- তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান দেশ ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ২১ মিনিট নাগাদ তিনি দেশ ছাড়েন বলে জানিয়েছে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

 

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, রাত ১টা ২১ মিনিটে ঢাকা থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে ৮৫৮৫ ফ্লাইটে করে মুরাদ আপাতত দুবাই যাচ্ছেন। ফ্লাইটটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১১টা ২০ মিনিটে। তবে ছাড়ার সময় তিন দফা পেছানো হয়েছে। প্রথমে ১২টায় ও পরে সাড়ে ১২টায়, সবশেষে ১টায় ফ্লাইটের সময় নির্ধারণ করা হয়।

 

ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মুরাদ হাসানের সঙ্গে তার পরিবারের কাউকে দেখা যায়নি। তিনি একাই আপাতত দুবাই যাচ্ছেন। সেখান থেকে কানাডায় যাবেন।

 

ইমিগ্রেশন সূত্র বলছে, ডা. মুরাদকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল। কর্মকর্তারা তাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারা তাকে ছেড়ে দেন।

 

এর আগে রাত ৯টার দিকে বিমানবন্দরে আসেন ডা. মুরাদ। সেখানে রজনীগন্ধা লাউঞ্জে অপেক্ষমাণ ছিলেন। পদ হারানোর পর থেকে দেশত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি গণমাধ্যম এড়িয়ে চলেন। তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ থাকলেও মামলা হয়নি।

 

দেশ ছাড়ার সময় মুরাদ হাসানের পরনে ছিল কালো রঙের ব্লেজার, টি–শার্ট, মাথায় কালো ক্যাপ, মুখে কালো মাস্ক ও জিনস প্যান্ট।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেয়ার পর এবং এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে ফোনে অশালীন বক্তব্য দেয়ার পর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পদত্যাগ করেন মুরাদ।

 

এরপর তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি জামালপুর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগ তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।

 

বুধবার থেকেই মুরাদের দেশ ছাড়ার আলোচনা শুরু হয়। তিনি কানাডায় যেতে চান বলে চাওর হয়ে যায়। তবে ছাত্রলীগের এক নেতা তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন কি না, এ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়।

 

দুপুরে বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি জানান, মুরাদের দেশ ত্যাগে বাধা নেই। আর সরকারেরও বাধা দেয়ার কিছু নেই।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বিদেশে যাবেন কি না, আমার জানা নেই। তিনি বিদেশে যাবেন না স্বদেশে থাকবেন, সেটি তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *