আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়েদের আলাদা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের নির্দেশের পর এবার ছাত্রীদের মুখঢাকা নেকাব পরার নির্দেশ দিয়েছে তালেবান।
গত মাসে দেশটির ক্ষমতা দখলের পর নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার কথা বললেও, ক্রমেই অবস্থান বদল করছে উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি।
শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) তালেবানের শিক্ষা বিষয়ক কর্তৃপক্ষের জারি করা এক নীতিমালায় নারীশিক্ষা বিষয়ে আরও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে পোশাক বিধির পাশাপাশি বলা হয়েছে, ছাত্রীদের শুধুমাত্র নারী শিক্ষকরাই পড়াতে পারবেন। নারী শিক্ষক না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র চরিত্রবান বয়স্ক শিক্ষকরাই মেয়েদের পাঠদান করতে পারবেন।
তবে এই আদেশ শুধুমাত্র বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই নীতিমালায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানের প্রথম শাসনামলে দেশটিতে মেয়েরা ব্যাপকহারে শিক্ষাবঞ্চিত ছিল। মূলত তালেবানের জারি করা নানা নিয়মনীতির কারণেই নারীশিক্ষা থমকে পড়ে।
তবে ২০০১ সালে তালেবানের শাসনামল অবসানের পরপর আফগানিস্তানে বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পাশাপাশি বেগবান হয় নারীশিক্ষা কার্যক্রম। দুই দশক পর গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর ফের নারীশিক্ষায় কঠোর নিয়মনীতি জারির পথে হাঁটছে তালেবান।
যদিও তালেবানের জারি করা নতুন নিয়ম অনুযায়ী মেয়েদের চোখ-মুখ ঢাকা বোরখা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। কিন্তু নিকাব পরলে মূলত চোখ ছাড়া পুরো মুখমণ্ডলই ঢাকা থাকে—যা প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের মুখঢাকা বোরখা পরতেই বাধ্য করবে।





