নজর২৪, ঢাকা- ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পরীমনির করা মামলায় প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদেরে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি মদসহ অন্যান্য মাদক দ্রব্য।
রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেন পরীমনি। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় বনানীর বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান তিনি।
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সোমবার ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের নামে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন পরীমনি।
আসামি গ্রেপ্তারে সকাল থেকেই রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয় উত্তরার এই বাড়িটিতে অবস্থান করছেন প্রধান আসামি নাসির ইউ মাহমুদ।
বাড়িটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অমিসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন নারীকে। জব্দ করা হয় দেশি-বিদেশ মদসহ মাদকদ্রব্য।
পুলিশ বলছে, এই বাসায় প্রতিদিন ডিজে পার্টির আয়োজন করতেন নাসির। উঠতি বয়সী তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করানো হত। বাড়িটিতে যাতায়াত ছিল অনেকের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, এটা অমির বাসা। পরীমণির সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে নাসির তার তিন রক্ষিতাকে নিয়ে এ বাসায় পালিয়ে ছিলেন। মাদক রাখার অভিযোগে সে তিন জনকেও আমরা গ্রেফতার করেছি।
নাসির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নাসিরের বিরুদ্ধে আগেও মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। নানা অভিযোগে তাকে উত্তরা ক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জেনেছি। কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আমরা সেগুলোর তদন্ত করব।
পরীমণি ক্লাবের সদস্য না হয়ে সেখানে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার বলেন, সে (পরীমণি) স্বনামধন্য নায়িকা। ওখানে (বোট ক্লাব) যেতেই পারেন। গেলে যে তাকে ওখানে হ্যারেজ (হয়রানি) করবে সেটা ঠিক না। আসলে কী ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্ত করে বলতে পারব।
তিনি বলেন, এই ঘটনা নিয়ে রোববার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন পরীমণি। সংবাদ সম্মেলনের পরপরই আমরা অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, তবে যেহেতু রাতে মামলা হয়নি, তাই আমরা অ্যাকশনে যাইনি। সাভার থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করি।
হত্যাচেষ্টা ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় নাসিরকে সাভার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে বর্তমানে মাদক উদ্ধারের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান হারুন।
