আন্তজার্তিক ডেস্ক- ভোটের ফল নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তির মধ্যেই নন্দীগ্রামের ভোটের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা আরিজ আফতাব সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।
সাংবাদিকদের আফতাব বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়েছে। পুনরায় ভোট গণনা হবে কি না ঠিক করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই গণনা আংশিক হবে না সম্পূর্ণ হবে, সে ব্যাপারেও তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এখনও পুনরায় গণনার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে কোনো আবেদন আসেনি।’
এর আগে বিকেলে চরম নাটকীয়তা আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের শেষপর্যায়ে আনন্দবাজার, এনডিটিভিসহ বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম জানায় নন্দীগ্রামে বিজয়ী হয়েছেন মমতা।
তবে এসব সংবাদমাধ্যম সন্ধ্যার পর অবস্থান পরিবর্তন করে। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সন্ধ্যা গড়াতে মমতার জয় নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বলা হয়, সার্ভারে সমস্যার জেরে সঠিক ভাবে কিছু জানা যাচ্ছে না। তার পরেই ১৬২২ ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের খবর আসে।’
শুভেন্দু অধিকারী টেলিফোনে আনন্দবাজারকে বলেন, ‘১৬২২ ভোটে জিতেছি আমি।’
অন্যদিকে মমতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘নন্দীগ্রাম যা রায় দেব, মাথা পেতে নেব।’
নিজের হারলেও দলের জয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘বাংলার জয়ের জন্য সকলকে অভিনন্দন। বাংলার জয়, মানুষের জয়।’
নন্দীগ্রামের মানুষ যা করেছে, ভালো করেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে, রায় ঘোষণার পর কারচুপি হয়েছে।’
ভোটে হার মেনে মমতার বক্তব্য প্রচারের কিছু সময়ের মধ্যেই আবার খবর আসে, নন্দীগ্রামে ভোটের ফল স্থগিত করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি কর্মকর্তা আরিজ আফতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, নন্দীগ্রামে নতুন করে গণনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এর আগে বিকেলে দলের জয় নিশ্চিত হতেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে হুইল চেয়ার ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। পায়ে হেঁটে তিনি ঢোকেন দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে।
দিনভর উত্তেজনার পর ভোট গণনার ষোড়শ রাউন্ড শেষে নন্দীগ্রামে মমতার চেয়ে ছয় ভোটে এগিয়ে যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। এরপর সবশেষ রাউন্ডে ব্যবধান আরও দীর্ঘ হয়।
প্রথম দিকের গণনায় শুভেন্দু মমতার চেয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকলেও পরে পিছিয়ে যান। গণনার একাদশ রাউন্ডের শেষে ৩ হাজার ৩২৭ ভোটে নন্দীগ্রামে এগিয়ে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এরপর আবার তার জয় নিয়ে শংকা তৈরি হয়।
