বাংলাদেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি আবারও নতুন করে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিনের নেতৃত্বে আবারও চালু হবে ইভ্যালি। নতুন কার্যক্রমকে সামনে রেখে সার্বিক বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হবে বলে ইভ্যালির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইভ্যালির ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে এ নিয়ে একটি পোস্ট দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে- ‘পূর্বের অর্ডার ডেলিভারি, গেটওয়ের টাকা এবং দেনা পরিশোধ সংক্রান্ত সব আপডেট নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করা হবে। ‘
এদিকে মোহাম্মদ রাসেলের সময়ে পরিচালিত কর্মকাণ্ড অডিট করে ৪৭ হাজার কোটি টাকার হদিস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বিদায়ী বোর্ড প্রধান সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। এরই মধ্যে রাসেলের স্ত্রী, শাশুড়ি এবং একজন নিকটাত্মীয়কে নিয়ে নতুন একটি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিন কোম্পানিটির সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি একই মামলায় জেল খেটে গত এপ্রিলে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। পাওনা টাকা কিংবা পণ্যের দাবিতে গ্রাহকদের বিক্ষোভের জের ধরে গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর নিজেদের অফিস বন্ধ ঘোষণা করেছিল ইভ্যালি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে গ্রাহক, মার্চেন্ট ও অন্যান্য সংস্থার কাছে তখন ইভ্যালির দেনা ছিল ৫৪৩ কোটি টাকা, আর এর গ্রাহক ছিল দুই লাখেরও বেশি। তবে নানা ঘটনার পর এখন আবার এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেলের স্ত্রী শামীমা নাসরিন, শাশুড়ি ও একজন নিকটাত্মীয়কে নিয়ে নতুন করে বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
শামীমা নাসরিনের আইনজীবী আহসানুল করিম এক জাতীয় দৈনিককে জানিয়েছেন, শনি (আজ) বা রোববারের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে তারা জানান।
তিনি বলেন, ‘ইভ্যালির কার্যক্রম ও ব্যবসা চালানোর জন্য যা কিছু দরকার সেটাই করবে এই বোর্ড। তাদের নিজস্ব কৌশলেই চলবে কোম্পানি। তবে এটা প্রত্যাশিত যে পুরনো গ্রাহকদের পাওনা অর্থ যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব কোম্পানিকে কাঠামোগতভাবে শক্তিশালী করতে হবে। নগদ অর্থপ্রবাহ ও ব্যবসা যেন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু থাকে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।’
নতুন বোর্ডের পুরোপুরিভাবে বৃহস্পতিবারই দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি না আসায় সেটি হয়নি। তবে ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন আদালত নিযুক্ত বোর্ড, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। মূলত তাদের দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানটির দায়-দেনা, কাজের পদ্ধতি ও বিপুল অর্থের দায় থেকে বের করা যাবে কি না, তা খুঁজে বের করা।
কিন্তু এই এগারো মাস পর তারা কী অবস্থায় ইভ্যালিকে রেখে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘কোম্পানির হাতে এখন মাত্র ৫০ কোটি টাকার মতো আছে। তবে এর পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট তারা আদালতে দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট বলেছিল আমাদের দায়িত্ব হবে অডিট করা ও তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া। সেটি আমরা করেছি। তাই এখন আমাদের দায়িত্ব নেই। আমাদের বলা হয়েছিল যে, আমরা রেসকিউ করতে পারলে ভালো কথা। আর না পারলে দেউলিয়া ঘোষণা করা।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বাধীন বোর্ড যে অডিট করিয়েছে তার রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ইভ্যালির প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার কোনো হদিস নেই। এই টাকা মোহাম্মদ রাসেলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের সময় ব্যাংক হিসেব থেকে চলে গেছে, যা আর উদ্ধার করা যায়নি।
শামীমা নাসরিনের নেতৃত্বাধীন বোর্ড কি আগের বিজনেস মডেল, অর্থাৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে পরে পণ্য দেওয়ার ব্যবসাই করবে, নাকি ব্যবসার ধরন পাল্টাবে, সেটি বোর্ডের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরই জানা যাবে বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
ই-কমার্স সেলের দায়িত্বে থাকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান জানান, এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশ এখনও তারা পাননি। তবে বোর্ডে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করবেন বলে জানান তিনি। তবে ইভ্যালির কাছে আগের গ্রাহকদের যে অর্থ এখনো আটকে আছে-সেটি তারা কতটা কীভাবে পাবেন কিংবা যাদের অর্ডার আটকে ছিল তারা কীভাবে সেটি পাবেন কোনো পক্ষই সেটি পরিষ্কার করে বলতে পারছে না।





