রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমানে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দেশের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে, এরই মধ্যে বাড়তে শুরে করেছে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি। এর সাথে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন, একারনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে যমুনা পাড়ের মানুষেরা।
যমুনা নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের বেনোটিয়া গ্রামের নদী রক্ষা বাধের দুইটি অংশে ইতিমধ্যেই ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। যেকোন সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকাড় ধারণ করার আতঙ্কে রয়েছেন এই গ্রামের শত শত পরিবার।
সরেজমিনে উপজেলার গালা ইউনিয়নের বেনোটিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ১শো ৩৫ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধের পাশ ঘেঁষে নির্মিত তীর রক্ষা বাধের দুইটি স্থানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। একটি স্থানে প্রায় ২০ মিটার ও আরেকটি স্থানে ১০ মিটার ভাঙনের কবলে পরেছে।
এলাকাবাসী জানায়, দ্রুত এই ভাঙন রক্ষায় পদক্ষেপ না নিলে যেকোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে ঘরবাড়ি সহ শেষ সম্বল। তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গেলে যমুনা নদী আঘাত হানবে হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধে, তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ্ স্থান মেরামতের দাবি জানায়।
তারা আরও অভিযোগ করে জানায়, অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে নদী রক্ষা বাধের পাশ ঘেষে বছরের পর বছর বালু উত্তোলনের ফলেই এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ ড্রেজার বন্ধে ইতিপূর্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।
এই বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. এরশাদ আলী বলেন, এই এলাকার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারে না। তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে আবারও ভাঙন শুরু হলে তাদের বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এই ভিটা ছাড়া হলে তাদের পথে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।
এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা পরিস্থিতি দেখতে আমি আজ খুকনী, জালালপুর ও কৈজুরী ইউনিয়নের নদীতীর বর্তী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। আগামীকাল মঙ্গলবার ভাঙনকবলিত বেনোটিয়া এলাকা পরিদর্শন করবো।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।





