দীর্ঘদিন ধরেই নেতৃত্বহীন চলচ্চিত্রের মাদার সংগঠন চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি। আগামী ২১ মে সংগঠনটির নির্বাচন হবে।
শোনা যাচ্ছে, চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির এবারের নির্বাচনে জোট বেঁধেছেন সময়ের সবচেয়ে বেশি অর্থ লগ্নীকারী দুই প্রযোজক। তারা হলেন- চলচ্চিত্রের মুভিলর্ড খ্যাত মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবং শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান।
সেলিম খান মূলত প্রযোজক হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করতেই ১০০ সিনেমার ঘোষণা দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। এই ১০০ সিনেমার একটি শাহ আলম মন্ডলের ‘লকডাউন লাভস্টোরি’ আগামীকাল ২৫ মার্চ মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এছাড়া আর কোনো সিনেমা এখনো মুক্তির মুখ দেখেনি। এই ঘোষণা দিয়ে একদিকে পরিচালক সমিতিতে প্রভাব বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে প্রযোজক সমিতিতে বাড়িয়েছেন ভোটার।
গেল কয়েকদিন ধরে এফডিসিতে পা রাখলেই শোনা যায়, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ৫৩-৫৮টি ভোটার নিয়ন্ত্রণে এনেছেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী ও প্রযোজক সেলিম খান। যেখানে মোট ভোটার ১৬৩। তাই এবারের নির্বাচনে সেলিম খান ‘স্পেশাল ওয়ান’ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তার শক্তি আরও বৃদ্ধি হলো ঢালিউডের আরেক ‘স্পেশাল ওয়ান’ ডেঞ্জারম্যানখ্যাত অভিনেতা ও প্রযোজক ডিপজলকে পেয়ে। সেলিম খান প্রযোজক সমিতির সভাপতি পদে লড়বেন। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে অংশ নেবেন ডিপজল।
বলার অপেক্ষা রাখে না চলচ্চিত্রের সকল সংগঠনেই ডিপজলের আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে একজন দাতা হিসেবে। তাই প্রযোজক সমিতির নির্বাচনেও তিনি বরাবরই প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। এবার নিজেই নামলেন নির্বাচনের মাঠে। ঘোষণা দিয়েছেন শাপলা মিডিয়ারই একটি গণমাধ্যমে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচন করার ইচ্ছে ছিল না। আমার কাছের লোকরাও বললো। আপনি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। আর আমাকে প্রথম অফার দিলো প্রযোজক সেলিম খান। তাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি বাচাঁনোর জন্য আমি এবার প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।’
‘আমার সঙ্গে সেলিম ভাই সভাপতি হিসাবে নির্বাচন করবেন। আমি সাধারণ সম্পাদক হিসাবে করবো’- যোগ করেন ডিপজল।
তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে সেলিম ভাই যেভাবে একের পর এক সিনেমা তৈরি করছে তাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। এখন তো বাজে সময়ে পার করছে ইন্ডাস্ট্রি। কতো লোক বেকার হয়ে যাচ্ছে। এই ইন্ডাস্ট্রি কিভাবে বাঁচানো যায় তার জন্য কাজ করবেন তিনি। আমাকে বলেছেন। এই রকম কথার কারণে আমিও রাজি হয়েছি।’
এর আগে গত ২ মার্চ বিএফডিসির জহির কালার ল্যাবের ভিআইপি প্রজেকশন হলে এক জরুরি বৈঠকে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কালাম আজাদ। নির্বাচন বোর্ডের সদস্য হিসেবে থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশরাফুর রহমান ও মো. আমিনুল ইসলাম।





