Home আলোচিত অবশেষে নোয়াখালীতে ফিরে গেল সেই বিলকিস

অবশেষে নোয়াখালীতে ফিরে গেল সেই বিলকিস

0
147

মাসুদ রানা, বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: দুই বছর আগে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের “বন্ধু খুঁজুন” গ্রুপের মাধ্যমে পরিচয় হয় নোয়াখালীর বিলকিস এবং টাঙ্গাইলের আঁখি নামের দুই তরুণীর। সেখান থেকে দুজনে মোবাইলে কথা বলতে বলতে তৈরী হয় বন্ধুত্ব এবং পরে সেটি প্রেমের পর্যায়ে গড়ায়। অবশেষে পালিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে রবিবার (২০ মার্চ) রাতে ঘর ছাড়লেও দ্বিতীয়বার প্রশাসনের উদ্যোগে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বিলকিসের (২০) বাড়ি নোয়াখালী সদর উপজেলায় এবং নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আঁখির (১৪) বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়নে।

ওই দুই তরুণীর পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, ফেসবুকের মাধ্যমে দুই বছর যাবত তাদের পরিচয়। দেড়মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে যাবার পর পরিবারের সদস্যরা পারেন তারা দুজন দুজনকে ভালবাসে এবং বিয়ে করে সংসার করতে চায়। আগের বার সিরাজগঞ্জের একটি এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিজেদের পরিবারে নিয়ে আসা হয়।

বিলকিস বলেন, ফেসবুকে তাদের পরিচয়, প্রেম। আমি ওকে ভালোবাসি, তাই চলে এসেছি। আমার পরিবার আমাদের সম্পর্ক মানবে না, তাই বাড়ি থেকে নিরুপায় হয়ে পালিয়ে এসেছি। ওর পরিবার না মানলে আমরা দুজনে অন্য কোথাও গিয়ে বসবাস করব। আমাদের কেউ আলাদা করার চেষ্টা করলে জীবন দিয়ে দেবো।

আঁখি বলেন, এর আগে আমরা ঢাকায় ও সিরাজগঞ্জ চলে গিয়েছিলাম। আমাদের পরিবার আলাদা করে নিয়ে এসেছে। সামাজিকভাবে আমাদের মানবে না, কিন্তু আমি ওর সঙ্গেই থাকতে চাই। বাঁচলেও ওর সঙ্গে, মরলেও ওর সঙ্গে। পুলিশ বা তারা যদি আমাদের মেরে ফেলতে চায়, তাহলে দুজনকে একসঙ্গেই মারতে হবে।

বিলকিসের ভাই শরিফুল ইসলাম জানান, ২০ মার্চ বিকেলে ডিম কেনার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এই ঘটনায় আমার আব্বা-আম্মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ওকে বাড়িতে নিয়ে আমরা বিয়ের ব্যবস্থা করবো।

ইউপি চেয়ারম্যান শামছুল আলম বিজু বলেন, স্থানীয় মেম্বারের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশক্রমে উভয় পরিবারকে আমার ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসি। তাদের পরিবারের অভিভাবকদের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সাক্ষর ও প্রমাণাদি রেখে চৌকিদারদের মাধ্যমে তাদেরকে নিজ বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন বলেন, নোয়াখালী ইউএনও মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে বিলকিসের অভিভাবককে খুঁজে বের করি। পরে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় ফুলকি ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে লিখিত কাগজপত্র ও অঙ্গীকারনামা রেখে দুই মেয়েকেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here