Home দেশের খবর মেয়েকে অপহরণ মামলায় বাবার যাবজ্জীবন কারাদন্ড

মেয়েকে অপহরণ মামলায় বাবার যাবজ্জীবন কারাদন্ড

0
252

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: দীর্ঘ ১৯ বছর পর রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মকরমপুর গ্রামে নিজের মেয়ে রাবেয়া বেগমকে অপহরন করে গুম করার মামলায় বাবা লুৎফর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ২ এর বিচারক রোকনুজ্জামান এ রায় প্রদান করেন।

মামলার বিবরনে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে রাবেয়া খাতুনের চাচা শশুড় হাছেন আলীকে তার বাবা লুৎফর রহমান সহ অন্যান্যরা হত্যা করে। এ ঘটনার একমাত্র চাক্ষুস সাক্ষী হলেন তার মেয়ে রাবেয়া খাতুন। এ ঘটনার পর রাবেয়া খাতুন অনেকবার তার বাবা লুৎফর রহমানকে বলেছে তার সামনে হাছেন আলীকে হত্যা করা হয়েছে বিষয়টি তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেবেন। এ ঘটনার পর থেকে বাবা লুৎফর রহমান তার মেয়ে রাবেয়াকে হত্যা করে অথবা লাশ গুম করার নানান পরিকল্পনা করতে থাকে।

২০০৩ সালে ২০ এপ্রিল তারিখে ১ ডিসেম্বর তারিখে কৌশলে তার মেয়ে রাবেয়াকে ঢাকায় নিয়ে যাবার জন্য পীরগাছা চৌধুরানী বাজারে ঢাকা বাস ষ্টান্ডে নিয়ে যায়। সেখানে তার বেশ কয়েকজন সহযোগী ছিলো। কিন্তু রাবেয়া তার বাবার মতলব বুঝতে পেরে চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে বাধ্য হয়ে লুৎফর রহমান তার মেয়ে রাবেয়াকে বাসায় নিয়ে আসে।

এরপর এক মাস পর ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তারিখ থেকে রাবেয়া বেগমের কোন সন্ধান না পাওয়ায় রাবেয়া বেগমের ছেলে রাঙ্গা মিয়া থানায় ডায়েরী করে। পরবর্তী কালে মায়ের কোন সন্ধান না পেয়ে পীরগাছা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহন না করায় আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ দেয়।

পুলিশ তদন্ত শেষে বাবা লুৎফর রহমানসহ ১০ আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করে। মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেলা শেষে আসামী লুৎফর রহমানকে দোষি সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। জরিমানার অর্থ নিহত রাবেয়ার ছেলে রাঙ্গা সহ তার সন্তানদের প্রদান করার আদেশ দেন।

সরকার পক্ষে মামলা পারিচালনাকারী আইনজিবী নারী ও মিশু নির্যাতন দমন আদালত ২ এর বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন এ্যাডভোকেট রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ন্যায় বিচার পেয়েছে বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here