এখন নারায়ণগঞ্জ আপনি সামাল দেন : র‍্যাব কর্মকর্তাকে শামীম ওসমান

নজর২৪ ডেস্ক- নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করেছে র‍্যাব। এসময় মহানগর ছাত্রলীগের নেতারা মারধরের শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগে বাহিনীটির এক কর্মকর্তার ওপর চটেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান।

 

তার কাছে ছাত্রলীগ নেতারা আহাজারি করে র‍্যাবের বিরুদ্ধে মারধরের নালিশ দিচ্ছেন এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে তাদের মার ধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে র‍্যাব।

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে এনায়েতনগর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের ৬৯নং পশ্চিম মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে পশ্চিম মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢুকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ, যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলামসহ তাদের শতাধিক লোকজন। তারা ইউপি সদস্য প্রার্থী শাহজাহান মাতবরের পক্ষে স্লোগান দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

 

তারা জানান, এ নিয়ে আরেক সদস্য প্রার্থী জাকারিয়া জাকির অভিযোগ তোলেন, ছাত্রলীগ নেতারা কেন্দ্রে ঢুকে সিল মারছে। উত্তেজনা দেখা দিলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা। তখন রিয়াদ তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে নিয়ে স্কুলের বাথরুমে আটকা পড়েন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা বেরিয়ে যান। এর পরপরই ভোটকেন্দ্রের বাইরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

 

স্থানীয়রা আরও জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনার পর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ওই কেন্দ্রে যান শামীম ওসমান। ওই সময় তার কাছে নালিশ করে ছাত্রলীগ নেতারা। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল আহাজারিও করেন।

 

রাকিবুল বলেন, ‘আমাদের কুত্তার (কুকুরের) মতো পি টি য়ে ছে।’ একই কথা বলেন রিয়াদও। তারা নিজেদের হাত দেখিয়ে সাংসদ শাশীম ওসমানের কাছে নালিশ করেন।

 

এসময় কেন্দ্রের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন র‌্যাব কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার এ কে এম মনিরুল আলম। তাকে শামীম ওসমান জিজ্ঞাসা করেন, ‘ওদের মারছে কেন?’

 

জবাবে র‌্যাব-১১ এর কর্মকর্তা মনিরুল আলম বলেন, ‘ওদেরকে মারি নাই স্যার। ওরা দেখেন এসব জিনিসপত্র নিয়ে (ধারাল অ স্ত্র ও লাঠিসোটা) আসছে। ওখানে ককটেল আছে। তারা এখানেই ছিল। আপনি সবাইকে জিজ্ঞাসা করেন।’

 

জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘এখন নারায়ণগঞ্জ আপনি সামাল দেন। দেখি আপনি পারেন কি না আর আমি পারি কি না। আপনি ছাত্রলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারিকে চোরের মতো মার বেন?’

 

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘চোরের মতো পি টা নো হয় নাই স্যার। তাদের প্রতিহত করা হয়েছে এগুলো নিয়ে আসায়।’

 

এসময় সাংবাদিকেরা শামীম ওসমানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কিছুই বলেননি। একপর্যায়ে তিনি কেন্দ্র থেকে চলে যান।

 

এদিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *